শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বজনরা পেলেন সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত মতলব উত্তরের লিটনের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩, ১২:৩৮ এম
স্বজনরা পেলেন সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত মতলব উত্তরের লিটনের মরদেহ
সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন সৌদি প্রবাসী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাজুরকান্দি গ্রামের মোঃ লিটন মিয়া (৩০) এর লাশ দীর্ঘ ২৬ দিন পর ফিরে পেলেন স্বজনরা।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ বিমানযোগে তার লাশ ঢাকার হযরত শাহ জালাল বিমান বন্দরে পৌঁছে দুর্ঘটনায় নিহত মোঃ লিটন মিয়া (৩০) এর লাশ । পরে লাশবাহী গাড়ীতে করে তাদের লাশ তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজনদের হারানোর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (৪ মে)) সকাল সাড়ে ৭টায় সময় নিজ বাড়িতে মোঃ লিটন মিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এর পর মোঃ লিটন মিয়ার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওমরাহ হজ করে কর্মস্থলে ফেরার পথে সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ লিটন মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। গত এপ্রিল মাসের ৮ এপ্রিল শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
লিটন সৌদি আরবের দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ওমরাহ হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। ওমরা হজ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তার বহন করা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরের পাহাড়ারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। দীর্ঘ ২৫ দিন অপেক্ষার পর তার মর’দে’হ বুধবার রাত ১০টার সময় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং সৌদি আরব থেকে লাশবাহী বিমানটি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাদের পরিবার লাশ ও আর্থিক অনুদান গ্রহণ করে। নিহত লিটনের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দিা গ্রামে। তিনি ওই এলাকায় চাঁন মিয়া সরকারের একমাত্র ছেলে। জীবিকার অন্বেষণে ৬ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তিনি সৌদি আরব দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এক ভাই-তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন লিটন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর্ঘটনার অনেক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রিয় জনের লাশ কাছে পেলেও চলছে আহাজারি। শোকস্তব্ধ পুরো বাড়ি। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারদিক। তাদের লাশ শেষ বারের মতো একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষের ঢল নামে।
একমাত্র উপর্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে হারিয়ে বিলাপ করছেন চঁান মিয়া সরকার। চঁান মিয়া সরকার বলেন, সৌদিতে পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে তারা আজ নিঃস্ব ও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। বাবা চঁান মিয়া সরকার লাশবাহী গাড়ী ধরে আহাজারি করছিলেন, আর মা নিলুফা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ।
লিটনের বাবা চাঁন মিয়া সরকার জানান, জায়গা-জমি বিক্রি করে ছয় বছর আগে সৌদি আরবে পাঠাই আমার সন্তানকে। এ বছর ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আমার সন্তানের। বিষয়টি তার এক বন্ধু ফোন করে এ খবর জানিয়েছেন। আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিল লিটন। সে বলেছিল, ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে টাকা পাঠাবে। কিন্তু তার আগেই আল্লাহ তাকে নিয়ে গেল। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন লাশ দেশে নিয়ে আসার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লিটনের মা নিলুফা বেগম একবারের জন্য হলেও সন্তানের মুখটা এক নজড় দেখতে পেরে শোকরিয়া আদায় করছি।
রাজুরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ শাহ আলম লস্কর বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বসবাসকারী বন্ধু-বান্ধ, আত্মীয়- স্বজনের সহযোগিতায় তাদের লাশ দেশে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার সময় লিটনের লাশ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার লাশ দেশে নিয়ে আসায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজকে আমরা নিহত লিটনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও খরচ করা হয়েছে। আমরা এ অসহায় পরিবারের পাশে আছি।
উল্লেখ্য, নিহত লিটন সৗদি আরব দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন । গত ৮ এপ্রিল ওমরাহ হজ্জ পালন শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার পথে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬ টায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। নিহত হওয়ার ২৬ দিনের মাথায় তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital