মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চাঁসক মাঠে প্রথম আলো বন্ধুসভার পাঠচক্র
মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩, ২:৪৫ পিএম
যদি বিশ্বের ইতিহাসের দিকে তাকাই তবে দেখবো যে কোনো একটি জাতিকে দমন ও নির্মূল করার জন্য দুটি অস্ত্র একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি গণহত্যা অপরটি ধর্ষণ। বাঙ্গালি জাতি হিসেবে আমাদেরও রয়েছে এক কলঙ্খিত ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আল-সামসরা নির্মমতার এক চিত্র এঁকেছিলেন।
একাত্তরে এদেশের নারীদের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পাশবিক নির্যাতন চালায়। সে সময় নির্যাতিত, লাঞ্চিত, নিগৃহীত নারীদের মধ্যে অনেকেরই জীবন প্রদীপ নিভে গিয়েছিল। আবার কেউ কেউ হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্যাতিতদের নামের পাশে বীরাঙ্গনা বলে সম্মানিত করেছেন। ড. মুনতাসীর মামুন সেইসব বীরাঙ্গনাদের মর্মস্পর্শি গাথা তুলে ধরেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। প্রকাশিত অপ্রকাশিত ৯০ জন বীরাঙ্গনার বয়ানও সেখানে লিপিবদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের নির্মম ইতিহাস ফুটে উঠেছে তার লেখা গ্রন্থ “বীরাঙ্গনা ১৯৭১” এ।
চাঁদপুর প্রথম আলো বন্ধুসভার বন্ধুরা শনিবার (১২ আগস্ট) চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে পাঠচক্রের মাধ্যমে বইপড়া কর্মসূচি পালন করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর বন্ধুসভার সভাপতি রিফাত কান্তি সেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কখনো শান্তি বয়ে আনে না। নির্যাতনকারীরা ইতিহাসে ঘৃণিত হিসেবেই বিবেচিত হয়। কাপুরুষরাই ধর্ষণ করে। যুগে যুগে উল্টো তারাই কলঙ্কিত হয়। বীরেরা সর্বদাই সম্মানিত হয়। ঘটনা যতই নির্মম হোক না কেন, জয় হয় সাহসীর। বীরাঙ্গনারা আমাদের কছে সেইসব সাহসী নারী। তাদের জন্য আমাদের রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। ড. মুনতাসীর মামুনের বইটি পড়ছিলাম আর মনে হলো রক্ত টগবগিয়ে উঠছে। কতটা নরপশু হলে এমন ঘৃণিত কাজ করতে পেরেছিলো পাকসেনা ও তাদের দোসররা।

সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, বীরাঙ্গনা ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। বইটিতে ফুটে উঠেছে নারীদের উপর পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র। সত্যি এটি মর্মান্তিক। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সদস্য অভ্রনীল অভি, মোনেম শাহরিয়ার, ফাতেমা তানজিন লরিন, আফরিন, আয়শা আক্তার, অভিলোধ, তানিয়া, কাকন, শুভ, মেহেদী হাসান, সিফাত, মোঃ হারিছ, আলামিন প্রমূখ।








