শাহরাস্তিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে সরকারি -বেসরকারি হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক মিলে প্রায় ৮শ ৯৯ জন রোগী সনাক্ত সংবাদ মিলছে।
এদিকে সরকারি হাসপাতালে কিট সংকটে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। পূর্বে দেশের ডেঙ্গু সংক্রমিত অঞ্চল থেকে কেউ এ জনপদে ঘুরে এলে ওই ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যেত। এবারেই প্রথম ভিন্ন চিত্র স্থানীয়ভাবে “এডিস এজিপ্টি” মশার কামড়ে ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আলামত পাওয়া গেছে ।
এ মৌসুমে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোথাও ভ্রমনে না যাওয়ার ইতিহাস থেকে এ তথ্য উপাত্ত উঠে এসেছে। এদিকে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা না থাকায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে ।
শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আক্রান্ত রোগী, বেসরকারি হাসপাতাল, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১১ফেব্রুয়ারি শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির আয়নাতলী এলাকার কোয়ার গ্রামের আব্দুল লতিফের স্ত্রী আরাফাতুন্নেসা ৫২ ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই সালে শাহরাস্তি উপজেলার ও আশপাশের এলাকা থেকে ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত ৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।
২০২৩ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গু আগ্রাসনের সঙ্গে ০৬ জানুয়ারি প্রথম উপজেলার সুচিপাড়া দক্ষিণ ইউপির নরিংপুর গ্রামের দেলোয়ারের সাড়ে ৪ বছরের কন্যা খাদিজার প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ওই থেকে ১২ আগস্ট অবধি ১২৬ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীশনাক্তকরণ শাহরাস্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়। যার পরিমাণ গত বছর থেকে প্রায় ২.৮৬ গুন বেশী।
এদিকে চলতি বছর আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি হাসপাতালে ২শ’ ৩২জন রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করে যার মধ্যে ১৮ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত হলেও বাকী ২ শ’ ১৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে । এতে ৪৫ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে ৩৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ।গত শুক্রবার ১৩জন শনিবার রাত পর্যন্ত ১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে ।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১২ দিনে রোগী ভর্তি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১আগষ্ট ০৫ জন, ০৬ জন,০ ৪ জন ০৪ জন,০৪ জন, ০ ৩ জন,০ ৭জন, ০৩ জন, ০৬ জন ০ ২ জন ১২ আগষ্ট ৬ জনসহ সর্বমোট ৫০ জন রোগী ভর্তি হন। যা পুরো বছরের সনাক্তকৃত রোগীর ৬৩ শতাংশ। এদিকে অত্র উপজেলায় ৮ টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ১২ টিডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবু সুভাষ চন্দ্র দাশ মাধু ও সংশ্লিষ্ট প্রাইভেট হাসপাতাল ডায়গনস্টিক সূত্র জানায়,উপজেলার বেসরকারি ৮ টি হাসপাতাল ৫ শ’ ৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও ১৮ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অন্তত ১৮৫ জন রোগী আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলছে।
এ নিয়ে সর্বশেষ ৮শ ৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া গেল। শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও ডা: অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী বলেন, অনেকের ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও রক্তের সি বি সি পরীক্ষায় প্লেটলেট কমে যাওয়া রোগীদেরকে সিমটম মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন আরো জানান, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকার রোগী ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি হচ্ছে এ হাসপাতালে । এ মৌসুমে রোগীরা ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪ আক্রান্ত হচ্ছে । তবে ডেঙ্গুর দুটি ধরনে মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে যাদের রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া রোগীদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা ও ঢাকায় রেফার্ড করা হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি ইউনিট খোলা হয়েছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । সেখানে ডে কেয়ার সার্ভিস চালু রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকটের কথা বলে তিনি এর চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
এদিকে সরকারি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ খোরশেদ আলম ও সহকারি প্রদীপ শংকর দাশ জানান, অতীতে যে পরিমাণ মানুষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হাসপাতালে আসতো তার চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই মৌসুমে।
কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এবং শাহরাস্তি বেরনাইয়া জেনারেল হাসপাতালের মালিক ডাঃ মোবারক হোসেন বলেন আমার হাসপাতালে ২ থেকে ২.৫ শ রোগীর ডেঙ্গুর সনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৬ থেকে ৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
শাহরাস্তি পৌরসভায় মেয়র হাজী আব্দুল লতিফ বলেন জনসচেতনতায় মিটিং ও ফগার মেশিন দিয়ে ঔষধ ছিটানো কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিনের সড়কের ময়লা আবর্জনা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাজ করা হচ্ছে।