বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে চরাঞ্চলে শরতের শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৯:৩৫ পিএম
মতলব উত্তরে চরাঞ্চলে শরতের শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল
শরৎকাল মানেই সাদা রঙের খেলা। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে দোল খাওয়া কাশবন মনে জাগায় অন্য রকম অনুভূতি। শারদীয় এ ঋতুতে ভ্রমণবিলাসীদের প্রথম পছন্দ কাশবন। কাশ ফুলের ছোঁয়া পেতে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে প্রকৃতি প্রেমী মানুষজন।
সরে জমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা ধনাগোদা নদীর বেরিবাদ এলাকার চরমাছুয়া, বোরচর, চরউমেধ, উদামদী, ষাটনল এলাকাসহ বিভিন্ন চরে দোল খাচ্ছে কাশ বন। এই কাশবনগুলো শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেনি, কাশগাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই।
কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই জমির কাশবন বিক্রি করে হাজার টাকা আয় করা যায়। অনাবাদী বালু চরে বন্যার পরে কাশ গাছ জন্মে। ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে গাছগুলো বড় হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। কাশবন বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এখানকার মানুষজন।
কাশবন দেখতে আসা মো. লিয়াকত হোসাইন (৩৫)ও রাফিয়া খানম (৩০) দম্পতি বলেন, কুয়াকাটা বা কক্সবাজার যাওয়ার জন্য ব্যয় হয় তা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য, তাই আমরা কোথাও ঘুরতে গেলে অবশ্যই ধনাগোদার বেরিবাদের পাড়ে চলে আসি। বিশেষ করে শরৎকালে এই মেঘনা ধনাগোদা বেরিবাধ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশবন আর কাশফুলগুলো নয়ানাভিরাম। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানু্ষেরা কাশফুল পছন্দ করে। স্বল্প খরচে এমন দৃশ্য উপভোগ করতে না পারা যেন প্রকৃতিকে অস্বীকার করা। যারা কখনো মেঘনা ধনাগোদা বেরিবাধে আসেননি তাদের এই দৃশ্য দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের উদামদী চরের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, উদামদী এলাকায় ধনাগোদা নদীর পাড়ে কাশ বন আছে। পাঁচ থেকে ছয় মাস পর কাশ গাছের ফুল পড়ে গেলে গাছগুলো কেটে আঁটি বাঁধি। প্রতি হাজার আঁটি ৪ থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
এখলাসপুর ইউনিয়নের বোরচর এলাকার সানাউল্লাহ মাষ্টার বলেন, আমাদের চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি আছে সেখানে শরৎকালের কাশফুল জন্ম নেয়, সেই কাশফুলের গাছ বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
ইমামপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঋতুপরিক্রমায় এখন শরৎকাল। আর সেই শরৎকালের বৈশিষ্ট্য কাশফুল। কাশফুলের আদিনিবাস সুদূর রোমানিয়ায়। এটি বাংলাদেশেরও একটি পরিচিতি উদ্ভিদ। আমাদের মতলব উত্তরে এটি অতিপরিচিত। যেহেতু মতলব উত্তর চতুর্দিকে নদীবেষ্টিত এলাকা এবং বহু চরাঞ্চলে রয়েছে। এসব চরে এখন কাশফুলের সমারোহ। কাশফুলের ইংরেজি নাম ক্যাটকিন। কাশফুলে রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। কাশ সাধারণত গোখাদ্যর খর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, কাশ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাউনি, বেড়া নির্মাণ করা হয়ে থাকে। আমরা জানি কাশে অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর হলে কাশের মূল পিশিয়ে খাওয়ানো হয়। ব্যথা বা ফোঁড়া হলে কাশের মূলের রস উপশম করে। তা ছাড়া পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে যেখানে শিল্প-কারখানার ছাই থাকে, সেখানে কাশ জন্ম নিলে পরিবেশ পরিশোধিত হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল হাসান বলেন, যে এলাকায় কাশবন আছে সে সব এলাকায় পর্যটকদের জন্য সুব্যবস্থা করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital