শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোহন ও সম্পাদক স্বপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩, ১০:৫৬ পিএম
গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোহন ও সম্পাদক স্বপন
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দিন মাহি।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর ) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির কার্যালয়ে ঘোষিত উক্ত কমিটিতে চাঁদপুর জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মতলব পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম মোহনকে  সভাপতি এবং হাজিগঞ্জ মডেল কলেজ এর হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফজলে রাব্বী স্বপনকে সাধারন সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।
উক্ত কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন যথাক্রমে: সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সৈয়দ ইফতেখার হারুন, সাইফুল ইসলাম মোল্লা, মাঈনুদ্দীন মিয়াজী, মামুন বকাউল, প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বাদল, মহসিন পাটোয়ারী, অপু পাটোয়ারী, মেহেদী হাছান রাব্বি, মিহির চক্রবর্তী, এইচ কে লিমন, মোতালেব হোসেন এবং ছালামত উল্লাহ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন বাহাউদ্দিন খান রবিন,বোরহান উদ্দিন মাল, আশরাফুল জাহান শাওলিন, খাজা সফিউল বাসায় রুজমন,শরিফুল ইসলাম প্রধান, আশ্রাফ আলী পাটোয়ারী অনিক, মোঃ বাহারুল ইসলাম, গোলাম রাব্বি, মোঃ রিজওয়ানুল ইসলাম এবং মোশারেফ হোসেন মুশু।
সাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুল ইসলাম শুভ্র, সোহেল মল্লিক, জসিম উদ্দিন, পার্থ পাল ভৌমিক, সাইফুল ইসলাম রনি এবং বাপ্পী মজুমদার।
প্রচার সম্পাদক ফিরোজ আলম মানিক, উপ প্রচার সম্পাদক ইসরাত জাহান ইভা, মানিক চন্দ্র শীল, মোঃ ফয়সাল খান, রাব্বী ইসলাম শান্ত এবং মানিক মজুমদার রাজু।
দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ আল আমিন মিয়াজী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল আহসান অপু, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন রাসেল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রায়হানা আক্তার মুকুল, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ ফয়সাল আহমেদ, উপ ক্রিয়া সম্পাদক সোহরাব হোসাইন শুভ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আশিকুর রহমান সানি, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কাউছার আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আমিন হোসেন উজ্জ্বল, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা, উপ তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আল শাহরিয়ার রোকন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাহিদ ইবনে সুলতান, উপ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রাফসান আহাম্মেদ মুক্তার, স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নূর ই আলম অভি, উপ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সম্পাদক কুলসুমা খানম মুন্নী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাবীবুর রহমান, উপ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন ফয়সল, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক মোঃ নেওয়াজ শরীফ বাবু, পরিবেশ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শামীম, উপ পরিবেশ সম্পাদক মেহেদী হাসান বাপ্পী, বন বিষয়ক সম্পাদক নেছার উদ্দিন মিশন, উপ বন বিষয়ক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, ভূমি বিষয়ক সম্পাদক কমল চন্দ্র দাস, উপ ভূমি বিষয়ক সম্পাদক জয় শেখ এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার পূষন।
মহিউদ্দিন মাহি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছি বিভিন্নভাবে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা সেমিনার করে যাচ্ছে গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট। আমরা মনে করি যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পারলে পুরো পরিবারকে পরিবেশ সচেতন করা যাবে।
সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট আমরা প্রতিষ্ঠা করি জনসাধারণের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা আনয়নে, দেশকে সবুজায়নে আচ্ছাদিত করতে, দেশের মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করতে। তিনি বলেন , পরিবেশকে সুন্দর রাখতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উক্ত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য এবং গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট এর কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক সফিউল আযম, উপকমিটির সদস্য এডভোকেট মিজানুর রহমান রুবেল, তানভীর হোসেন ভূঁইয়া এবং ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অনুধাবন করেই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের (Green Environment Movement) জন্ম। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশবাদী এই সংগঠন ২০১৮ সালের ২০ মার্চ আত্মপ্রকাশ করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’