শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নবাগত ইউএনও’র সাথে কচুয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়

সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ ও লালনের আরশি নগর : নবাগত ইউএনও ইকবাল হাসান

মো: রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৩, ১০:২৯ পিএম
সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ ও লালনের আরশি নগর : নবাগত ইউএনও ইকবাল হাসান

নবাগত কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান এর সাথে কচুয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলমগীর তালুকদার, সহ-সভাপতি আতাউল করিম, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ফরহাদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুজন পোদ্দার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, আহসান হাবীব সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, শান্তু ধর, মো. রাসেল, প্রচার সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সঞ্জীব ভৌমিক অপু, নির্বাহী সদস্য শ্যামল কান্তি ধর, মো. হারুন অর রশিদ, মো. আবু হানিফ, সদস্য সৈয়দ আরাফাত ছামী, ফরহাদ বকাউলসহ প্রেসক্লাবের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। আলোচনার শুরুতে নবাগত ইউএনও মো. ইকবাল হাসানকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করেন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

এসময় তিনি বলেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় অধ্যয়নরত অবস্থায় আমি ডেইলি স্টার পত্রিকায় রিপোটিং করতাম। সাংবাদিকদের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নাঈম ভাইয়ের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিলো। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে ও কল্যানে আমরা কাজ করছি। আপনারা সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ জনগণের কল্যানে পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করেন। আপনাদের উদ্দেশ্য আর আমাদের উদ্দেশ্য একই রকম। আপানাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই। কচুয়াকে স্মার্ট উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই আপনাদের সহযোগিতায়।

Model Hospital

আপনারা হলেন সমাজের দর্পণ ও লালনের আরশি নগর। সারা দেশের মানুষ কচুয়াকে পজেটিভ হিসেবে চিনবে এটা আমি আপনাদের কাছ থেকে আশা করছি। আপনাদের কোন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থাকে আমাকে বলবেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাবেন। আপনাদের এমপি হলেন বাংলাদেশে লিজেন্ড। আপনাদের এমপি এবং আপনাদের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের বিকল্প নাই। কচুয়াকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

প্রসঙ্গতঃ ইউএনও মো. ইকবাল হাসান রাঙ্গামাটির জেলার বরকল উপজেলা থেকে বদলী হয়ে কচুয়া উপজেলায় যোগদান করেন। কুমিল্লা জেলার অধিবাসী ইউএনও মো. ইকবাল হাসান ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে যোগদান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’