শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হলো না ভারতের রান উৎসব, গুটিয়ে গেল ২৪০ রানে

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৩, ৬:৫৪ পিএম
হলো না ভারতের রান উৎসব, গুটিয়ে গেল ২৪০ রানে

পুরো আসরজুড়ে দাপুটে ব্যাটিং করে গেছে ভারত। বোলিংটাও হয়েছে তাদের দুর্দান্ত। ব্যাট-বলের দুর্বার পারফরম্যান্সে অপরাজিত থেকে ফাইনালে নাম লেখে রোহিত শর্মারা। ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও ব্যাটিং তাণ্ডব চালাবে ভারতীয় ব্যাটাররা। কিন্তু সেই প্রত্যাশাটা স্বপ্ন হয়েই রয়ে গেল। হলো না রান উৎসব। অস্ট্রেলিয়ান পেস ঝড়ে অল্প রানেই গুটিয়ে গেল আয়োজকদের ইনিংস। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের পেস বোলিং ঝড়ে সবকটি উইকেট হারিয়ে কোনোমতে ২৪০ রানের পুঁজি গড়ল ভারত। ব্যাট হাতে লড়লেন কেবল লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মা। ত্রয়ী তারকা ব্যাট হাতে দৃঢ়তা না দেখালে লজ্জাজনক স্কোরেই থামতে হতো তাদের। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জিততে অজিদের দরকার এখন ২৪১।

অস্ট্রেলিয়ানদের বোলিং তোপের মাঝে আলো ছড়িয়ে গেছেন বিরাট কোহলি। আদায় করে নিয়েছেন দারুণ এক ফিফটি। তবে হাফ-সেঞ্চুরিকে জাদুকরী তিন অঙ্কে রূপ দিতে পারেননি ভারতের সাবেক এ ক্যাপ্টেন। তবে লোকেশ রাহুল পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে ছুটে চলছিলেন সেঞ্চুরির পানে। কিন্তু নাহ! দুর্ভাগ্য! তিনিও পারেননি। ফিফটিতেই সন্তুষ্ট থাকলেন রাহুল। ৬৬ রানের দুর্বার এক ইনিংস খেলে মিচেল স্টার্কের আগুন বোলিংয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তারকা এ ব্যাটার।

অজিদের বোলিং তোপে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল ভারত। তবে বিরাট কোহলির ব্যাটিং দৃঢ়তায় সেই বিপদ কাটিয়ে উঠার সাহস দেখিয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার আভাস দিচ্ছিলেন। কিন্তু নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি ভারতের সাবেক অধিনায়ক কোহলি। ফিফটি হাঁকিয়েই প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৬৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে দলের প্রয়োজনে খেলেন ৫৪ রানের দাপুটে এক ইনিংস। কোহলির বিদায়ে ফের চাপটা বেড়ে যায় ভারতের। যেটা আর কেউ সামাল দিতে পারেনি।

অজিদের দুরন্ত বোলিংয়ের জবাবে ভারতীয়দের ব্যাটিংও হচ্ছে দুর্দান্ত। তবে শুরুর তোপে ভারত হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট। তাতেই পড়ে যায় চাপে। সেখান থেকেই ভারতীয় ইনিংসের গড়বড়ের শুরু। প্রথম তোপটা দাগান মিচের স্টার্ক। ৪ রান নিয়ে অ্যাডাম জাম্পার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান গিল। দারুণ ব্যাটিং করেও ফিফটি মিস করেন রোহিত শর্মা। ৪৭ রানে সন্তুষ্ট থেকে ভারতীয় ক্যাপ্টেন ফিরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে ট্রাভিস হেডের তালুবন্দি হয়ে। আর শ্রেয়াস আইয়ারকে ব্যক্তিগত ৪ রানে হতাশ করেন প্যাট কামিন্স।

Model Hospital

বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো কাটেনি। উইকেট পেতেই বেগ পেতে হয়েছে মিচেল স্টার্কের। কিন্তু আসরের শেষ দিকে ফর্মে ফেরেন মিচেল স্টার্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে নেন তিন উইকেট। আজ ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও তারকা এ অজি পেসার পেলেন ৩ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্স। একটি করে উইকেট পেয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যাডাম জাম্পা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’