শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৪(ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

এ নির্বাচনে কোন অশুভ শক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না : স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল হক ভূঁইয়া

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:৪০ পিএম
এ নির্বাচনে কোন অশুভ শক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না : স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল হক ভূঁইয়া

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) ও চাঁদপুর-৩(চাঁদপুর সদর ও হাইমচর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রতিক-ঈগল) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া তার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে অনুুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি হলো জনগণের সেবা করার উত্তম পন্থা। রাজনীতির অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আমি রাজনীতিকে এবাদত হিসেবে মানি। আমি বিশ^াস করি ভোট একটি জনগণের আদালত। আমরা সকলে এই আদালতের সামনে হাজির হয়েছি। আগামী ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তবে আমি আমার জীবনের শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিবো।

তিনি আরো বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে সবকিছুই ইসির কাছে চলে গছে। এখন আর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কিছুই নেই। ১৮ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। সেই দিনই কয়েকটি স্থানে অপ্রীতকর ঘটনা এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা কোন ক্রমেই মেনে নেয়ার মতো নয়। আমি এ কথা ষ্পষ্ট বলে দিতে চাই। এ নির্বাচনে কোন অশুভ শক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না।

একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭জানুয়ারীর নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমুলক করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আামরা তার সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করবো।

Model Hospital

তিনি বিগত নির্বাচনে নৌকার বিপরীতে প্রার্থী হলে বিদ্রোহী বলা হতো। কিন্তু এবছর দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। তাই অতীতে হিসেব নিকেশ ভুলে গিয়ে জনগণ যেনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সমর্থ হয়, সেই চেষ্টা করুণ। সারাদিন ভোট হবে, সন্ধ্যায় আমরাই বিজয় মিছিল করবো। এসব কথা যারা বলেন, তারা এসব কথা ভুলে যান। জনগণের কাছে যান, ভোট প্রার্থনা করুণ।

গত ৫ বছরে এই উপজেলা মাদকে সয়লাভ হয়ে গেছে। আমি জনগণের আাদালতে নির্বাচিত হলে আমি এই উপজেলাকে মাদক মুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান রানা, আলমগীর হোসেন স্বপন, আরিফুর রহমান আজাদ, প্রচার সম্পাদক সুলতান আহমেদ রিপন, সদস্য কামলা মিজি, ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ, এস এম কাউসারুল আলম কামরুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডারের সহিদ উল্ল্যা তপদার, ডেপুটি কমাণ্ডার সরোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জহির হোসেন মিজি, সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, মাহবুব আলম সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সুজন, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’