বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর খবর পত্রিকার বর্ষ পূর্তিতে হাজীগঞ্জে র‌্যালি ও আলোচনা

চাঁদপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্য তা সত্যি অভিভুত হওয়ার মতো : অ্যাডি. এসপি পঙ্কজ কুমার দে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:০৯ পিএম
চাঁদপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্য তা সত্যি অভিভুত হওয়ার মতো : অ্যাডি. এসপি পঙ্কজ কুমার দে

একটি পত্রিকা মফস্বল শহরে ১৭ বছর টিকে থাকাটা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জিং বিষয় : প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত ও বহুল প্রচারিত দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকা ১৭ বছর পেরিয়ে ১৮ বছর পর্দাপন উপলক্ষে কেক কাটা, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) চাঁদপুর হাজীগঞ্জ বাজারে শেরাটন রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার দে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার দে বলেন, পুলিশ এবং সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। তথ্য প্রযুক্তি যুগ এখন, তাই অনেকেই ফেসবুকে বিভিন্ন ভাবে তথ্য প্রচার করে থাকে। তবে এগুলোর তেমন কোন ভিত্তি নেই এবং সরকারীভাবেও কোনো অনুমতি নেই। তিনি বলেন, সমাজের অসঙ্গতি, উন্নয়ন, এবং প্রতিষ্ঠান যেন টিকে থাকে সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে। হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুরের প্রতেকটি খবরাখবর আপনারা নিয়ে আসবেন। পুলিশ এবং সাংবাদিকের সম্পর্ক যেন আরো অটুট থাকে, সেই বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্য তা সত্যি অভিভুত হওয়ার মতো। আসলে সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ বিনির্মানে চাঁদপুরের পত্রিকা গুলো বিশেষ ভাবে ভূমিকা রাখছে। আমি আশা করি আগামী দিনেও পত্রিকাগুলো এ ধরণের ভুমিকা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে আজকে যে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এ পত্রিকাটি অতি অল্প সময়ের মধ্য চাঁদপুরের মধ্য সুষ্ঠু ও সুন্দর সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কাজেই আজকের এ অনুষ্ঠানে আমি দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার আগামি দিনের পথ চলা আরো সু-দৃঢ় হক এই কামনা করছি।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বলেন, একটি পত্রিকা মফস্বল শহরে ১৭ বছর টিকে থাকাটা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমাদের মফস্বল শহরে অনেক পত্রিকা। তাদের মধ্যে দৈনিক চাঁদপুর খবর ১৭ বছর পাড়ি দেওয়া একটা চ্যালেঞ্জিং অর্জন।

তিনি বলেন, পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিনটি আনন্দের দিন। প্রথমেই পাঠকমহলসহ সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি মহোদয়, চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ বিভাগকে। বিশেষ করে সম্মানিত পাঠকদেরকে। যারা এ পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সাহস দিয়েছে। যাদের প্রেরনায় অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতায় পত্রিকাটি আজকে পাঠক মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। চাঁদপুর জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত পত্রিকার মধ্যে একটি। পত্রিকা নিয়মিত বের হয় এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পত্রিকা প্রকাশ করছি। পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করার সাথে অর্থনৈতিক ব্যাপারও রয়েছে। পত্রিকায় এমন সংবাদ লেখা যাবে না, যা পাঠক গ্রহন করবে না। সংবাদের আবশ্যই বস্তুনিষ্ঠতা থাকতে হবে। তাই আপনাদের সত্য ঘটনা’র মানসম্মত নিউজ প্রেরণ করতে হবে। সংবাদ নির্ভুলভাবে পাঠাতে হবে। আমি আরো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি চাঁদপুর প্রেসক্লাবকে।

দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম সিফাতের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও নিজস্ব প্রতিনিধি গাজী মহিস উদ্দিন ও প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ, ট্রাফিক ইনচার্জ বোরহানউদ্দিন সেলিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কচুয়া উপজেলা পরিচালক মোহাম্মদ হাসান, হাজীগঞ্জ উপজেলা ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার, ১১ নং হাটিলা প্রশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একে এম মজিবুর রহমান, ৪নং কালচোঁ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন, ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, ২নং বাকিলা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক – এনায়েত মজুমদার, পত্রিকার চিফ রিপোর্টার সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরাআন তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পাটোয়ারী ও গীতা থেকে পাঠ করেন সাংবাদিক সুজন দাস।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক এস এম মিরাজ মুন্সি, সাইফুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম জয়, শাখাওয়াত শামীম, হুমায়ুন কবির, জাহিদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান রনি, মজিব পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর হোসেন, হোসেন বেপারী, মাঈনুদ্দীন মিয়াজী, রিয়াজ শাউন, জহিরুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, মির্জা মানিক, নূর মোহাম্মদ প্রমূখ।

আলোচনা শেষে গরীব ও অসহায়দের মাঝে সেলাই মেশিন ও হু‌ইল চেয়ার বিতরণ করা হয় ।

পরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।