শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাধারণ মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই আমৃত্যু; সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সেলিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:০০ পিএম
সাধারণ মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই আমৃত্যু; সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সেলিম

মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান সেলিম শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান সেলিম বলেছেন, মানুষের সেবা করলেই মানুষের মাঝে পৌঁছনো যায়। একজন মা যেমন তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই একইভাবে অসহায় মানুষকে জড়িয়ে ধরে। মানুষের সেবা করতে হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো। সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রেখে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের সেবা করতে হবে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও গুলশান থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মাহবুবুর রহমান সেলিমের উদ্যোগে গরীব ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। শুক্রবার সকালে ৩নং ওয়ার্ডের কলাকান্দা গ্রামে সহস্রাধিক শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবুর রহমান সেলিম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ বুকে ধারন করে সারাজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। সাধারণ মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই আমৃত্যু। দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমি সবসময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি ছেঙ্গারচর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও গুলশান থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মাহবুবুর রহমান সেলিম।

Model Hospital

ছেঙ্গারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা মামুন পাটোয়ারী মিঠুর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা মালেক খান, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন খোকন ঢালী, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল হক ঢালী, সমাজসেবক খোকা ভূইয়া, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদ উল্লাহ সরকার প্রমুখ।

এসময় ছেঙ্গারচর পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন ফরাজী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’