রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে স্কোয়াশ চাষে লাভবান কৃষক

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪, ১১:২০ পিএম
চাঁদপুরে স্কোয়াশ চাষে লাভবান কৃষক

কৃষি নির্ভর চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনার চরে কৃষকের মাঠে দুলছে নানা ধরণের শাক-সবজি। এসব সবজির পাশাপাশি নতুন করে চাষ করা হয়েছে স্কোয়াশ। অতি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই স্কোয়াশ আবাদে লাভবান হচ্ছে এ জেলার কৃষকরা।

উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় স্কয়াশ ক্ষেতের রঙিন দৃশ্য। নতুন এ ফসল থেকে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

জানা যায়, স্কোয়াশ একটি শীতকালী সবজি। দেখতে মিষ্টি কুমড়ার মতো হলেও এটি লম্বা হয়। অধিক পুষ্টি সম্মৃদ্ধ ও মুখরোচক এ স্কোয়াশ অনেকটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে এর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। এটি চাষের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি বেশ উপযুক্ত।

এসব মাটিতে অধিক ফলন উৎপাদন করা সম্ভব। শীতকালীন এই আবাদ থেকে ভালো ফলন পেতে জমি গভীরভাবে চাষ করার পর মই দিয়ে জমি তৈরী করতে হয়। পরিকল্পনা মাফিক চাষ করা হলে ১০০ দিনের মধ্যে প্রতি হেক্টরে ৩৫-৪০ টন উৎপান করা সম্ভব।

Model Hospital

মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল গ্রামের কৃষক হান্নান সরকার জানান, চলতি রবি মৌসুমে পরীক্ষামূলক নতুন করে ২ বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। এতে বীজ-সার-শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। আরও প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করবেন।

তিনি আরও বলেন, সবজি ফসলের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল স্কোয়াশ। কৃষি বিভাগ কর্তৃক সঠিক পরামর্শ পেলে আগামী বছর পাঁচ বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষিবিদ মজিবুর রহমান জানান, স্কোয়াশের উচ্চ ফলনশীন কয়েকটি জাত রয়েছে। এর মধ্যে বারি স্কোয়াস-১ জাতটি খুবই ভালো। কৃষকরা এই স্কোয়াশ চাষে অনেকটাই লাভবান হতে পারবে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, মতলব উত্তর উপজেলা মেঘনা নদীর চরে কৃষক হান্নান সরকার স্কোয়াশ চাষ করেছে। আমরা কৃষি দপ্তর থেকে সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এসব কৃষকদের লাভবান করতে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।