রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে চার শতাধিক অসহায় মানুষ পেল প্রভাতের শীতবস্ত্র

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪, ১১:২৯ পিএম
চাঁদপুরে চার শতাধিক অসহায় মানুষ পেল প্রভাতের শীতবস্ত্র
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষদের মাঝে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শীত বস্ত্র বিতরণ করেছে অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের কোটরাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আড়াই শতাধিক অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়।
চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা টাইলস হাউজের স্বত্বাধিকারী ও চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান।
চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হোসেনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার বিল্লাল হোসেন তপদার, মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সফিউল আলম সাইফুল পাটওয়ারী, রাজাগাঁও ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ আব্দুর রহিম, কোটরাবন্দ বাইতুস সালাহ জামে মসজিদের সভাপতি ক্বারী মোঃ শহীদ উল্যাহ মিজি, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রহমান জুয়েল, ফখরুল ইসলাম জহির।
এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের জানা মতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সমন্বয় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতি এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে প্রভাত। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে সংগঠনটি।
ভবিষ্যতেও একটি সুন্দর আগামীর জন্য কাজ করবে প্রভাত। এসময় এ এলাকাটি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। গ্রামের অসহায় মানুষদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান আগামীতেও কাজ করবে। মানুষ মানুষের জন্য কাজ করলেই পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে। তাই আমরা একে-অপরের পাশে থাকব।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শাহমাহমুদপুরের ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, উপাদী দক্ষিণের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিপন মিজি, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আক্কাস মিজি, মোঃ লিটন হোসেন মিজি, নজির আহমেদ, জাহিদ খান জিসান, প্রভাতের নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান ও দাতা সদস্য মোঃ ইয়াছিন মাল এর সহযোগিতায় এবছর প্রায় চার শতাধিক মানুষের মাঝে প্রভাতের উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।