সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে মাসব্যাপী উদ্যমী নারী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন

পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর অর্জন, তার পেছনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪, ৮:০২ পিএম
পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর অর্জন, তার পেছনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি

চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নারীরা একই সঙ্গে অনেক রকমের কাজ করার সক্ষমতা রাখে। তাঁদের এসব গুণ সংসারের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও কাজে লাগানো যেতে পারে।

পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যেটা নারী ছাড়া হয়। নারীদের জড়তার জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীদের হাত ধরে এগিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এখন আমাদের কাজটা করে যেতে হবে। নারীদের প্রযুক্তি শিখতে হবে। নারীকে তার যোগ্যাতায় নিজের জায়গা করে নিতে হবে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে মাসব্যাপী উদ্যমী নারী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন আনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

ডাঃ দীপু মনি বলেন, চাঁদপুরের মেয়েরা বহুকাল আগে থেকেই শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিতে এগিয়ে ছিল। এখনও দেশে-বিদেশে চাঁদপুরের মেয়েরা তাদের কর্মদীপ্ত আলো ছড়াচ্ছে। গত কয়েক বছরে চাঁদপুরে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদপুর উইমেন চেম্বারের আয়োজনে মেলাটি নারীদের প্রেরণা দিতে একটি মহৎ উদ্যোগ।

Model Hospital

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন ‘প্রত্যেক নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে তাঁর চেষ্টা বা ইচ্ছেটাই বড় ব্যাপার। কারণ, নারীদের নিজস্ব একটা জগৎ রয়েছে। আমরা চাই সব নারী ঘরের পুরুষদের সহযোহিতা নিয়ে নিজ সংসার, সন্তান ও দেশের জন্য এগিয়ে আসবে।

এ জন্য সরকারও রয়েছে তাঁদের সব ধরনের সহায়তা দিতে। আজকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে সব রকমের ব্যবস্থা রয়েছে। যাতে প্রতিটি নারী দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।’

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে মাসব্যাপী উদ্যমী নারী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন আনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।

ডাঃ দীপু মনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যেটা নারী ছাড়া হয়। নারীদের জড়তার জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীকে তার যোগ্যাতায় নিজের জায়গা করে নিতে হবে।

নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর অর্জন, তার পেছনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে।

চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মনিরা আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম।

চাঁদপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মেম্বার কবিতা সাহার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলা কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন আক্তার।

এ সময়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ ) পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল ইয়াসির আরাফাত,
চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, অ্যাড মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক অ্যাড.রনজিত রায় চৌধুরী, সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সুমন, ডিআই ওয়ান মনিরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেদায়েতউল্লাহ শ্রাবণ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, পৌর কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড হুমায়ুন কবির সুমন, জেলা পরিষদের সদস্য আয়েশা রহমান লিলি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মাসব্যাপী এই মেলায় ৪২ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।