শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ইউপি নির্বাচনে নৌকা ৫, বিদ্রোহী ২ ও স্বতন্ত্র-৩ প্রার্থীর বিজয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:৫৩ এম
শাহরাস্তিতে ইউপি নির্বাচনে নৌকা ৫, বিদ্রোহী ২ ও স্বতন্ত্র-৩ প্রার্থীর বিজয়

বিশেষ প্রতিনিধি : শাহরাস্তি উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন। বাকী ৫ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীরা আনারস ও চশমা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।

রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮ টায় থেকে বিকেল ৪ টায় পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে একটানা ভোট গ্রহন চলে। অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে উপজেলার দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই উৎসব মুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় ভোটকেন্দ্রগুলো। এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তারবলয় থাকায় ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পেরেছেন। এতে ভোটারদের পছন্দনীয় প্রার্থীরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

এতে মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩০৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবেভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীক নিয়ে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ২৩৪১ ভোট।

মেহের উত্তর ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে ২৯৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে মোঃ মনির হোসেন পেয়েছেন ১১৯৩ ভোট।

Model Hospital

রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫১১৩ ভোট নিয়ে বেসরকারিভাবেভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মোশারফ হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন পেয়েছেন ৪৬৫৫ ভোট।

রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩৭৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আঃ রাজ্জাক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল বাসার মোটরসাইকেল পেয়েছেন ৩৪০৬ ভোট, আনারস প্রতীক নিয়ে মাহবুব আলম পেয়েছেন ২৯৫৮ ।
সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৩৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবেভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীক নিয়ে হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী পেয়েছেন ৫৯৯৫ ভোট।

সুচিপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহতাব উদ্দিন হেলাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ রশিদ চশমা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৪৯৪৭ ভোট।

চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে ৬৬৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল পেয়েছেন ৪৭৩৫ ভোট।
চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী আলম বেলাল আনারস প্রতীক নিয়ে ৫৬৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু ইউসুফ পাটোয়ারী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪০২৪ ভোট।

টামটা উত্তর ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে ওমর ফারুক দর্জি ৭১১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের আলমগীর কবির পলাশ পেয়েছেন ৬৩৮২ ভোট।

টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে চশমা প্রতিক বর্তমান চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মানিক ৪২৯৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাল হোসেন পেয়েছেন ৩৩৯৬ ভোট; নৌকা প্রতীক নিয়ে সফিকুর রহমান পেয়েছেন ২৮৫১ ভোট।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’