শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:২১ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ক্যাম্পাস রিপোর্ট : মেঘনা পাড়ের বাতিঘর বলে খ্যাত চাঁদপুর সরকারি কলেজে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় কলেজ প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল খায়ের সরকার।

একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বাহারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাছান, পাঠ উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আলী আজগর ফকির ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পাঠ উন্নয়ন কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম হোসেন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কিউ এম হাসান শাহারিয়ারের সঞ্চালনায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ফলাফল উপস্থাপন করেন একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।

Model Hospital

শিক্ষার্থীরা কিভাবে ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে, সে সম্পর্কে অনেক অভিভাবক মতামত ব্যক্ত করেন। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বিপুল সংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও অভিভাবকবৃন্দ কলেজের ডাকে এভাবে সাড়া দিবেন। তিনি বলেন, ‘অভিভাবকগণ হচ্ছেন, কলেজের স্টেক হোল্ডার।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাল ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা ভাল কিছু করুক, আমাদের এখান থেকে পাস করে ভাল কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হউক। শুধু জিপিএ ফাইভ নয়, আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে ভাল মানুষ হতে হবে।’

দুপুর ১টায় সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে রাজু ভবনের ১০৮ নং কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞান বিভাগে ফারাব আল-রহমান, মানবিক বিভাগে সুমাইয়া আক্তার এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জান্নাতুল নাঈম প্রথম স্থান অধিকার করে।

অভিভাবকবৃন্দ করতালির মাধ্যমে তাদেরকে অভিনন্দন জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’