শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর লঞ্চঘাট ব্রিজ সংলগ্ন খাল দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪, ৯:০০ পিএম
চাঁদপুর লঞ্চঘাট ব্রিজ সংলগ্ন খাল দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুর শহরের ৭নং ওয়ার্ড মাদ্রাসা রোড লঞ্চ ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন পানি নিষ্কাশন হওয়ার খাল অবৈধভাবে ভরাট করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায় শহরের পানি নিস্কাশন হওয়ার একমাত্র মাদ্রাসা রোডের এই খালটি দিন দিন ভরাট করছে কিছু অসাধু লোক। খাল ভরাট করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ ও দোকানপাট করে এ খালটি ভরাট করছে এলাকার কিছু অসাধু লোক।

এমনি করে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মোহাম্মদ নাসির দেওয়ান (৫৫) পিতা মৃত্যু শরীফ দেওয়ান সাং মাদ্রাসা এলাকা।

জানা যায় মোহাম্মদ নাছির দেওয়ান এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জোর পূর্বক করে অবৈধভাবে খাল ভরাট করে ঘর নির্মাণ করতে দেখা যায়।

Model Hospital

এদিকে বিষয়টি এলাকাবাসী জানাজানি হলে খালভরাট না করার জন্য বলেন অনেকে। কিন্তু কাউকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ভাবে পানি নামার খালটি ভরাট করেই বাড়ি নির্মাণ করছেন। কেউর কথা শুনছেন না তিনি। লঞ্চ ঘাটের যাওয়ার একমাত্র ব্রিজ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করবে পাশে মাদ্রাসা রোড বড় হবে। রাস্তার পাশে টিন সেড নাছিরের ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটি এ বাবদ ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সামনের অংশ না ভেঙ্গে পিছনে আবার নতুন করে খাল ভরাট করে নির্মাণ করছেন নতুন ঘর। পানি নিষ্কাশন হওয়া খালটি অবৈধভাবে ভরাট করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

বাধা দিলে কারও কথা তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ের খাল ভরাট করছেন শুনে রেলওয়ের ভূমি উপপ্রকশলী মোহাম্মদ নুর সহ রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং দেখতে পান খালটি আসলেই ভরাট করছেন।

এই বিষয়ে খাল ভরা না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। শহরের পানি নিষ্কাশন হওয়া মাদ্রাসা রোডের একমাত্র খালটি ভরাট করছেন অবৈধভাবে। এই বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপুর শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশন হওয়ার একমাত্র খালটি ভরাট করছে আমি শুনেছি তবে অবৈধভাবে খালটি ভরাট করা ঠিক হয় না পানি নিস্কাশনের জন্য শহরের এই খালটি যদি ভরাট হয়ে যায় ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়বে। তাই এলাকাবাসীর দাবি খালটি ভরাট যেন না হয় প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।’

অবৈধভাবে খাল ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন মোহাম্মদ নাসির দেওয়ান বলেন, ‘সবাই তো খাল ভরাট করছে আমি হয়তো একটু মাটি ফেলেছি।

এছাড়া ঘরটি পুরনো তবে নতুন করে কিছু মেরামত করছি।

নতুন ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা বড় হবে আমার দেকানঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা দেয়।’

এদিকে জানা যায় মোহাম্মদ নাছির দেওয়ান এই টিনশেড ঘরটি কয়েক বছর আগে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে নেন মোহাম্মদ সিরাজ চৌকদার এর কাছ থেকে। তবে তিনি সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। এভাবে কিছু দিয়ে কিনে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। এবার খাল ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন আবার বিক্রি করবেন এটাই তার পেশা ।

মোহাম্মদ নাসির প্রবাসী হলেও চাঁদপুরে রয়েছে কয়েকটি বাড়ি এবং অনেককে হাত করে এইসব দখল কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সব সময়। অবৈধভাবে খাল ভরাট করছে আর বর্ষায় পানি বন্দী হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। খালটি যেন অবৈধভাবে ভরাট না করে এলাকাবাসীর দাবি। এই দখলবাজের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রাশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরর জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’