শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে স্বপনের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪, ৪:২৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে স্বপনের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস
অর্থলোভে সর্ম্পককে বিসর্জন দিয়ে আপন ভায়রা ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আরেকজনের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করেছে অপর ভায়রার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে দীর্ঘ একযুগ ধরে সম্পত্তি রক্ষার সাথে সাথে ওই সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না স্বপন রায়ের পরিবারের। নিজের ভায়রা বিজয় শীলের লোকজন কর্তৃক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মন্দিরের সামনে বসবাস করছে।
গত সোমবার(১১মার্চ) বিকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজারের কুরি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ১১মার্চ সোমবার দুপুরের পর বিজয় শীলের নেতৃত্বে ২০/৩০জনের একদল লোক এসে রূপসা কুড়ি বাড়ির স্বপন রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দেয় । পরে তাদের ঘরের সমস্ত মালামাল ভাংচুর করে বাইরে ফেলে দেয়। এসময় তাদের নগদ অর্থ, স্বণাংলাকার এবং বায়না চুক্তির কাগজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এধরনের ঘটনা এই এলাকায় ইতিপূর্বে ঘটেনি।
মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন গেলে দেখা যায়, স্বপন রায়ের পরিবারের সকল মালামাল কুড়ি বাড়ির শীতলা মন্দিরের সামনে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক জিনিসপত্র ভাঙ্গা। বাড়ির লোকজন জানান, ঘটনার পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছে।
জানা গেছে, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের কুরি বাড়ির বিজয় শীল প্রবাসে থাকার কারণে তার পরিবারের সদস্যরা নোয়াখালী জেলার চৌমুহনিতে বসবাস করে। কুড়ির বাড়ির নিজের সম্পত্তি রক্ষায় প্রায় এক যুগ পূর্বে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শীল বাড়ির ভায়রা স্বপন রায়কে স্বপরিবারে তার ঘরে বসবাসের জন্য রূপসা তার বাড়িতে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে স্বপন রায়ের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করবে বলে বায়নাচুক্তি ও  টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই সোমবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে।
স্বপন রায় জানান, তার ভায়রা বিজয় শীলের কথা অনুযায়ী তাদের ঘর বাড়ি রক্ষা, মামলাসহ নানা ঝামেলা মোকাবেলা এতদিন করলেও সে আমাদের সাথে কোনরূপ যোগাযোগ না করেই আমাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। আমরা এখন দুই দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছি। আমাদের সমস্ত আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। আমরা পথে বসে গিয়েছি। অথচ আমার ভায়রার সাথে আমার তার বসত বাড়ি আমার কেোছ বিক্রির বিষয়ে কথাও হয়েছে। বায়নাপত্র হয়েছে, টাকাও লেনদেন হয়েছে। সে বিদেশ থেকে আসার পর গত কয়েকমাস ধরে আমি তাকে রেজিস্ট্রির বিষয়ে বললেও সে কোন কিছুই বলেনি। কিছুদিন পূর্বে জহর লালের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য বায়না করেছে  এমন কথা লোকমুখে শুনে তাকে জিজ্ঞাসা করলেও সে সদোত্তর দেয়নি। অর্থলোভে পড়ে সর্ম্পককে ভুলে সোমবার সে নিজে উপস্থিত থেকে আমাদের উচ্ছেদ করলো।
স্বপন রায়ের ছেলে সুশান রায় বলেন, সোমবার তার খালু, খালা খালাতো ভাই, জহর লালসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মারধর , হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। ৯৯৯ ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। তারা অভিযোগ করার কথা বলেছেন।
উচ্ছেদ হওয়া ঘরে বসবাসকারী জহর লাল রবিদাস জানান ,তিনি বিজয় শীলের কাছ থেকে তিনমাস পূর্বে বায়না করেছেন এই সম্পত্তি। শর্তমতে সোমবার ঘর খালি করার পর মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সম্পত্তি রেজিস্ট্রি শেষে ঘরের দখল নিয়েছি। উচ্ছেদের ব্যাপার বিজয় শীলের  বিষয়।
স্থানীয় মন্দির কমিটির সভাপতি শান্তি শীল বলেন, এমন ঘটনা কুড়ি বাড়িতে আর ঘটেনি। এটা অমানবিক। আত্মীয় স্বজনদের এভাবে উচ্ছেদ করার পূর্বে এমনকি বাড়ির জমি বিক্রির পুর্বে বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন ছিল। বিজয় শীল আমাদের সাতে কোন যোগাযোগই করেনি।
এব্যাপারে বিজয় শীলের মুঠোফোনে কল করলে তার ছেলে শিমুল শীল উচ্ছেদেও কথা স্বীকার কওে বলেন, বারবার তাদের ঘর ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও তারা ঘর না ছাড়েনি। তাই আমরা তাদের বের করে দিয়ে সম্পত্তি ক্রেতা জহর লালকে বুজিয়ে দিয়েছি।
এদিকে ঘটনায় স্তব্ধ স্বপন রায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল ফরাজি জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনকে ভিজ্ঞ আদালতের স্বরনাপন্ন হতে বলেছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’