শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ধানে ব্লাষ্ট, চাষ করে বিপাকে কৃষক

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১:১৩ এম
শাহরাস্তিতে ধানে ব্লাষ্ট, চাষ করে বিপাকে কৃষক
শাহরাস্তি চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা গ্রামে উইন ৩০৫ জাতের ধান চাষ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ধানের অধিকাংশই চিটা, ফলে তারা বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে ‘খোরাকি’ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
শাহরাস্তি উপজেলার বড়তুলা গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, ধানে ব্লাস্ট রোগ ধরার পর কৃষি কর্মকর্তারা ছত্রাকনাশক বিষ দিতে বললেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
শত শত কৃষকের উইন ৩০৫ জাতের ধানের জমির প্রায় ৯০ ভাগ চিটা হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকের খরচও উঠছে না। কেউ কেউ ধান জমিতেই ফেলে রাখছেন। কেউ হয়তো গরুকে খাওয়ানোর জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
শাহরাস্তি উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার বলেন, “কিছু জমির ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উইন ৩০৫ জাত একটি নতুন জাত। পূর্বে খিরা ৫ ও ১৯ জাত চাষ করতো কৃষকরা। তবে এবার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ১৫ জন কৃষক সরকারী প্রণোদনায় ধানের বীজ পেয়েছে। এই বছরেই এই জাতের ধান কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ সময় একই গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক তার জমির ধান দেখিয়ে বলেন, “উইন-৩০৫ জাত এবার আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে। ক্ষেতকে ক্ষেত ছিটায় ভরে গেছে।”।তিনি আরও বলেন, “নিজের লোক নাই। রোজকামলা দিয়ে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ১২০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। সবই শেষ। এবার চাল কিনে খেতে হবে।“
বড়তুলা গ্রামের কৃষক বদ্দুস মিয়া বলেন, “আমার নিজের জমি নেই। ৭২ শতাংশ জমি বর্গা চাষ করেছিলাম। মানুষের কাছ থেকে ঋণ করে এনে চাষ করেছিলাম। এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।”
একই গ্রামের কৃষক মীর হোসেন জানান, এভাবে দুর্যোগ আসবে তারা ভাবতেও পারেননি। পুরো ধানের ছড়ার প্রায় ৯০ ভাগ ছিটা। ১০ ভাগ ভালো থাকলেও কাটানো খরচ দিয়ে তা পোষাবে না; তাই কেউ তা কাটার চিন্তা করছে না। অনেকে তা কেটে নিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছে।
শাহরাস্তি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, “ব্লাস্ট রোগ যখন প্রথম ধরা পড়ে তখন পাতা একটু একটু মরতে শুরু করে। তখনই কৃষকদের ধাপে ধাপে ‍তিন রাউন্ড ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেই। একই সঙ্গে ইউরিয়ার পরিবর্তে পটাশিয়াম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। “ব্লাস্ট ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের এ থেকে উত্তরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ একর জমিতে উইন ৩০৫ জাতের ধান নষ্ট হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।” তবে এটি মূল উৎপাদনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না বলেও মনে করেন এই ‍কৃষি কর্মকর্তা।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital