শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ১৮টি  রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর ও ৪টির শুভ উদ্বোধন 

শাহরাস্তি পৌরসভাকে অত্যাধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়বো : মেজর রফিকুল ইসলাম এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ১১ মে, ২০২৪, ১১:২৯ পিএম
শাহরাস্তি পৌরসভাকে অত্যাধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়বো : মেজর রফিকুল ইসলাম এমপি

শাহরাস্তিতে স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ রেসপন্স এ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট ও পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের  আওতায় শাহরাস্তি পৌরসভার ৪টি রাস্তার শুভ উদ্বোধন এবং ১৮ টি রাস্তার ১১৬২৪ মিটার কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ১২, ৪৫, ১৩, ৮৬৯ .০০ টাকা ব্যায়ে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে শাহরাস্তি পৌরসভা মিলনায়তন থেকে একযোগে ভার্চুয়ালি টেলিকনফারেন্সে এটির ভিত্তিপ্রস্তর ও শুভ উদ্বোধন করা হয়।

ওইদিন শাহরাস্তি পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাতের ভার্চুয়ালি সভাপ্রদানে এতে  টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখে এটির শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি,মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর অব: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।

তিনি বক্তব্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। সেভাবে হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি উপজেলাতেও উন্নয়নের মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমি  ১৯৯৬ সালে সাংসদ নির্বাচিত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর  দায়িত্বভার পেয়ে এই জনপদের উন্নয়ন শুরু করি। ওই হিসেবে এই পৌরসভাটির অবকাঠামো উন্নয়ন পরবর্তীতে এটিকে প্রথম শ্রেণী রূপান্তর করি। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে পৌরসভাটির কোটি কোটি টাকার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, এই পৌরসভায় বর্তমানে আরো প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কাজ পাইপলাইনে রয়েছে। আগামীতে অত্র  শাহরাস্তি পৌরসভাকে মাস্টারপ্ল্যানে নিয়ে অত্যাধুনিক ও মডেল পৌরসভা হিসেবে  গড়ে তুলবো। আপনারা সেই উন্নয়নের অংশীদার হতে আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।

এ সময় তিনি বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফের পৌরসভাটিকে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করায় ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে তিনি এই আয়োজনে কাউন্সিলর অত্র অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী দলীয় নেতৃবৃন্দ এলাকার বিশিষ্ট জনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, পৌরসভার প্রধান  নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) রোটা: তোফায়েল আহাম্মদ শেখ, প্যানেল মেয়র মোঃ শাহাবুদ্দিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান, প্রধান সহকারি মোঃ নজরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক বাবু মানিক লাল ঘোষ, অফিস সহকারী সোলেইমান মিয়া, সহকারী কর আদায়কারি সাদ্দাম হোসেন, আদায় কারী মাহবুব আলম, জিলান মিয়া,পংকজসহ পুরুষ ও নারী কাউন্সিলর বৃন্দ, কর্মকর্তা কর্মচারী, উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ ,ছাত্রলীগ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প গুলো হচ্ছে, ১১নং ওয়ার্ডের ভাটনীখোলা জিপিএস হতে ১নং ওয়ার্ডের মেহের রেলওয়ে ষ্টেশন সড়ক পর্যন্ত রাস্তা ডিবিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ।২নং ওয়ার্ডের বাদিয়া গাজী বাড়ীর দিকের রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ।৩নং ওয়ার্ডের সুয়াপাড়া কালিয়াপাড়া-কচুয়া মহাসড়ক হতে সুয়াপাড়া-সেনগীও রাস্তা পর্যন্ত ভায়া বাগান বাড়ীর দিকের রাস্তা ইউনি ব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজ।৩ নং ওয়ার্ডের সুয়াপাড়া মুন্সি বাড়ি সংযোগ সড়ক হতে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক পর্যন্ত ভায়া মৌলভী বাড়ি ও হাজি বাড়ীর দিকের রাস্তা ডিবিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ।৪ নং ওয়ার্ডের সাহাপুর বাগান বাড়ীর দিকের রাস্তা ইউনি ব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজ।৪ নং ওয়ার্ডের সাহাপুর রেল ক্রসিং হতে হাজী বাড়ি হয়ে নোয়া বাড়ীর দিকের রাস্তা ডিবিসি যারা উন্নয়ন কাজ।

৫নং ওয়ার্ডের উপলতা জাপানী বাড়ী হতে মেহের কলেজ রোড ভায়া প্রফেসর ওয়াহিদুর রহমানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ডিবিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ।

৬নং ওয়ার্ডের কাছিরকাপ শাহরাস্তি মাজার সড়ক হতে ভোলদিগী মাদ্রাসা রাস্তা পর্যন্ত ভায়া কাজিরকাপ মুফতি বাড়ীর দিকের রাস্তা ডিবিস্কি-দ্বারা উন্নয়ন কাজ।

৭নং ওয়ার্ডের উপজেলা হাসপাতাল-ঘোষপাড়া সড়ক হতে ঘোষবাড়ি, মিজি বাড়ী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল পাশা মজুমদার বাড়ী হয়ে ঠাকুরবাজার-সাহেব বাজার সড়ক পর্যন্ত রাস্তা ডিবিসি যারা উন্নয়ন কাজ।৮নং ওয়ার্ডের নিজমেহার আই,জি, হোসেন আহমেদ সড়কের আসাদের বাড়ী হতে কালিবাড়ি-নওয়াবপুর ফেরিঘাট সড়ক পর্যন্ত রাস্তা ডিবিসি যারা উন্নয়ন কাজ।৮ নং ওয়ার্ডের দোয়াভাঙ্গা-ভল্টা রাস্তা হতে সাবেক সচিব সিরাজুল ইসলাম সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত ভায়া মিজি বাড়ি রাস্তা ডিবিসি দ্বারা পুনর্বাসন কাজ।৯নং ওয়ার্ডের দোয়াভাঙ্গা-পানিওয়ালা সড়ক হতে বাওলা সারেং  বাড়ি পর্যন্ত বি.সি. রাস্তা ভিবিসি দ্বারা পুনর্বাসন কাজ।৯ না, ওয়ার্ডের নিজমেহার পালপাড়ার রাস্তা ইউনি-ব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজ।১০নং ওয়ার্ডের কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক হতে বাদিয়া-বলশীদ সড়ক পর্যন্ত ভায়া করবা রাস্তা ডিবিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ।১০নং ওয়ার্ডের সেনগাও বামিয়া-বলশীদ সড়কে সালাম মিয়ার দোকান হতে টুকির বাপের বাড়ী ভায়া নন্দ্বী বাড়ি, কর্মকার বাড়ি ও যোয়াত বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইউনি-ব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজ।১১নং ওয়ার্ডের সাহেব বাজার-কৃষ্ণপুর সড়ক ডিবিসি সি দ্বারা উন্নয়ন কাজ। ১১নং ওয়ার্ডের তটিনীখোলাজিপিএস-ডিংরা-উপলতা সড়ক। ডিবিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ। ১২ নং ওয়ার্ডের  দোয়াভাঙ্গা- ডন্টা সড়ক হতে কাটা পুকুর পাড় ভায়া রনজা গাজী বাড়ী রাস্তা ডিবিসি দ্বারা  উন্নয়ন তাজ।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।