ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারনা

তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গুলোতে মিছিল, মিটিং মাইকিং, উঠান বৈঠক করে নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। এতে করে তীব্র দাবদাহে নির্বাচনী আমেজে সাধারণ ভোটাররাও রয়েছেন বেশ ফুরফুরা মেজাজে।

প্রার্থীতা উন্মুক্ত করায় অর্থাৎ দলীয় প্রার্থী না থাকার চেয়রাম্যানের পদে ভোটের লড়াই হবে ত্রি-মুখী। তিনজনেই অত্র উপজেলার বেশ জনপ্রিয় ব্যাক্তি। তাহলে হিসেব অনুযায়ী লড়াই হবে আওয়ামী লীগ বনাম- আওয়ামী লীগের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানের চায়ের দোকানে চলছে মুখরোচক নির্বাচনী আমেজ, প্রার্থীরা তাদের কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার, লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যায়। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।

এদিকে সাধারণ ভোটাররা আশা প্রকাশ করেন যাকে বিপদে আপদে পাশ পাবেন এলাকায় উন্নয়ন করবে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করবে এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন তারা।
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩ জন হেভিওয়েট প্রার্থী। তার মধ্যে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান কাপ- পিরিজ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
উপজেলার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, গতবারের ভুল ত্রুটি মার্জনা করে উপজেলার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পুনরায় নির্বাচিত করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। গতবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট করেছেন তিনি। আইয়ুব আলী বেপারী বলেন, আমি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উপজেলার উন্নয়ন করতে চাই। মানুষ যদি আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে তাহলে আমি উপজেলার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো।
এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শিক্ষনুরাগী ও আইনজীবী, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন।
এবার চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূইয়া। জয়ী হবার নিমিত্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। প্রবীণ হবার দরুন সকলে তাকে বেশ সম্মান করেন। নির্বাচিত হলে চাঁদপুর সদর উপজেলাকে একটি স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে তিনি জানান।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরেকজন নবীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তরুণ ও মেধাবী ছাত্রনেতা মো. রাকিব মাঝি। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন চশমা প্রতীক নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবিএম রেজওয়ান, টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস নুরুল হায়দার সংগ্রাম ও তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হাওলাদার।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে লড়ছেন ২ জন। পদ্দফুল প্রতীক নিয়ে লড়বেন রেবেকা সুলতানা মুন্না। ফুটবল মার্কা নিয়ে লড়ছেন শিপ্রা দাস। তাছাড়া হাঁস প্রতিক নিয়ে ভোট প্রার্থনায় মাঠে রয়েছেন মনোয়ারা বেগম।
প্রার্থীরা বিগত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে কে কি করেছেন, নতুনরা জয়ী হলে কি করবেন, সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তাদের বিরামহীন প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বেশ আগ্রহ। তারাও হিসাবনিকাশ করতে শুরু করছেন-কার হাত ধরে হবে উপজেলা বাসীর ভাগ্য উন্নয়ন। যোগ্য প্রার্থী বেছে নেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ চান ভোটাররা। ২১ মে ভোটাররা ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে জন্য যোগ্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
সাধারণ ভোটাররা জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিপদে-আপদে পাশে পাওয়া যাবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবেন তারা। জনবিচ্ছিন্ন কোনো প্রার্থীকে তারা চান না। আগামী ২১ই মে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনবান্ধব ও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান।
জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১০ জন প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন জন।
চাঁদপুর সদর উপজেলায় মোট ১৪টি ইউনিয়ন ও ১৫ টি ওয়ার্ড। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৪ টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৭ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৭৮ জন।








