শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌকা প্রার্থীকে সমর্থন নয়, জনগণের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১, ৪:৫২ পিএম
নৌকা প্রার্থীকে সমর্থন নয়, জনগণের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সহিংসতা রোধে জনগণের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন মাস্টার।

নৌকা মার্কার প্রার্থীকে সমর্থন নয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে মেম্বার প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে ও নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হামলা ও খুন রাহাজানি যাতে না হয় সেদিকে চিন্তা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মাস্টার।

৩ নভেম্বর বুৃধবার বিকেলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে সকল প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্প্রীতির সভায় তিনি নিজের প্রর্থীতা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।

এর আগে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিলাল হোসেন পাটোয়ারি তার বক্তব্যে নির্বাচনে সহিংসতা যাতে না হয় সেই লক্ষ্যে এবারের নির্বাচন থেকে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন মাস্টার এবং ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত হাত পাখা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ গাজীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান।

Model Hospital

তারপরেই চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া ও কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি যাতে না হয় সেই লক্ষ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। অবশেষে অনুষ্ঠান চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন মাস্টার তার দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে উন্নয়নের নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, ‘চাঁদপুরের সদরের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর নির্বাচনে যে কোন একজন নির্বাচিত হবেন। তাই মারামারি হানাহানি করে লাভ নেই। দিনশেষে আমরা সবাই চাঁদপুরে বসবাস করবো। আজকে দেলোয়ার হোসেন মাস্টার নিজের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জনগণের কথা চিন্তা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এটি সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, ‘আমি এর আগেও এই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। এবছর বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও এলাকাবাসীর অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি।

এলাকার ভোটারদের বিশাল একটি অংশ আমার জন্য কাজ করেছে। আজকের এই সম্প্রীতি সমাবেশ এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদিও এই ঘোষণা আমার জন্য খুবই কষ্ট এবং বেদনাদায়ক। তবুও এলাকাবাসীর স্বার্থে, নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা ও খুনাকুনি যাতে না হয় এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’

বিল্লাল হোসেন মাস্টার বলেন,আমি কখনোই বিএনপির সাথে দুর্ব্যাহার করিনি। তাদের মামলা হামলা করে হয়রানি করিনি। বিএনপি মেম্বারদের বেশি কাজ দিয়েছি। দলমত নির্বিশেষে ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। এই বারের নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা যাতে না হয় এলাকার মানুষের স্বার্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মাস্টার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার এই উদারতা ইউনিয়নবাসী মনে রাখবে। আমি তাকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এদিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বর্তমান চেয়ারম্যান বিল্লাল মাস্টার স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার মাস্টারের হাত ধরে তাকে বুকে টেনে জড়িয়ে ধরেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’