শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নগদ টাকা ও ত্রাণ নিয়ে নোয়াখালী ও ফরিদগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে কচুয়া প্রভাত

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:০০ পিএম
নগদ টাকা ও ত্রাণ নিয়ে নোয়াখালী ও ফরিদগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে কচুয়া প্রভাত
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যার কবলে পড়েছে দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলা। স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত নোয়াখালী ও চাঁদপুরে বন্যার্তদের পাশে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, কচুয়া শাখার সদস্যরা। কচুয়ার মমিন মমতাজ ট্রাস্ট এবং উদ্দিপ্ত তরুন সংঘের পক্ষ থেকে উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন প্রভাত কচুয়া শাখা।
গত সোমবার (২৬ আগস্ট) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি। এর মধ্যে ১৮০ জন মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী, ১০০ জন কর্মহীন মানুষকে নগদ টাকা ও ৩০০ ব্যক্তিকে জামাকাপড় দেয়া হয়। তবে ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি জামাকাপড় ও নগদ টাকা পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় ব্যক্তিরা।
মো. আবু হানিফ প্রধান নামে সংগঠনের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, আমাদের এই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সংগঠন মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আজকের এই ত্রাণসামগ্রী প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বন্যাকবলিত প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে বিভিন্ন প্রকার শুকনা খাদ্যসামগ্রী, জামাকাপড়, ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই মানবিক কাজে সংগঠন এবং সংগঠনের বাইরে এলাকাবাসী অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মানুষ এবং মানবতার কল্যাণে আমাদের এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে।
উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, হাজীগঞ্জ শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলাম রোহান, প্রভাত ফরিদগঞ্জ শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মজিবুর রহমান, রাসেল হোসেন, প্রভাত কচুয়া শাখার সদস্য মোঃ আবু হানিফ প্রধান, রোকন উদ্দিন সরকার, হাফেজ শাখাওয়াত প্রধান, মেহেদী হাসান সরকার, হাফেজ মোঃ সোয়াইব মুন্সি, নাঈম খান, সফিউল্লাহ খান, জাকারিয়া মিয়াজি, রিয়াদ খান, সালাউদ্দিন মিয়াজী সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’