রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কর্মব্যস্ততা ফিরেছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা

ইলিশ ধরার শুরুতে দাম আকাশচুম্বি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:২৮ পিএম
ইলিশ ধরার শুরুতে দাম আকাশচুম্বি

ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। রোববার (৩ নভেম্বর) দিনগত মধ্যরাত থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবারও ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা শুরু করেছেন জেলেরা। ইলিশ ধরা শুরু হওয়ায় ফের জমে উঠেছে নদীপাড়ের আড়তগুলো।

সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে বড়স্টেশন মাছঘাটে সরবরাহ হয়েছে ২০০-৩০০ মণ ইলিশ। এতে চিরচেনা কর্মব্যস্ততা ফিরেছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে।

তবে জালে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা। যে কারণে ইলিশের দাম এখনো আকাশচুম্বী। বরাবরের মতোই মাছঘাটে এসে দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাঁদপুর মাছঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘২২ দিন বড়স্টেশন মাছঘাটে সব ধরনের বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর আমাদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আজ ইলিশের সরবরাহ কম, যে কারণে দামও বেশি। আজকের বাজারে ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৩০০-১৪০০ টাকা। এককেজি ওজনের ইলিশ ১৭০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

Model Hospital

হাবিব আহমেদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘মনে করেছিলাম আজ ইলিশের দাম কিছুটা কমবে কিন্তু এসে দেখি আগের মতোই বেশি। প্রত্যেকটি আড়তে ইলিশের পাশাপাশি বড় বড় সাইজের পাঙাশ আছে। তবে দাম বেশি।’

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবেবরাত সরকার বলেন, ‘প্রতিবছর ইলিশের সরবরাহ কমছে। আগে পদ্মা-মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে শত শত ট্রলার চাঁদপুর মাছঘাটে আসতো। কিন্তু জালে ইলিশ কম ধরা পড়ায় এখন আর সেই ট্রলারগুলো আসে না। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এখনো দাম বেশি।’ সামনে মনে হচ্ছে না ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। যদি সরবরাহ না পারে তাহলে দাম কমার আর সম্ভাবনা নেই।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।