রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে কামিল ও ফাযিল মাদরাসার এডহক কমিটির সভা

আমরা মাদরাসায় গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই : চাঁদপুর ডিসি মোহসীন উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:০৫ পিএম
আমরা মাদরাসায় গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই : চাঁদপুর ডিসি মোহসীন উদ্দিন

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুরের ৩টি কামিল ও ৭টি ফাযিল মাদরাসার এডহক কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

চাঁদপুর শহর ও সদরের ৩টি কামিল ও ৭টি ফাযিল মাদরাসার নবাগত এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৬অক্টোবর (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এডহক কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদরাসায় এডহক কমিটির সভাপতি ও  চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
সভায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন,প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা  আগমন- প্রস্থান নিশ্চিত  করবেন। এক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন প্রধান।মাদরাসায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হবে। ক্লাসগুলো নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনারা এনটিআরসিএর শূন্য পদের চাহিদা দিবেন। বিশ্ববিদ্যালয় যদি পদ সৃষ্টি করে থাকে এবং মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আপনারা নিয়োগ দিবেন। আপনারা যারা এডহক কমিটির সদস্য আছেন আপনারা কিন্তু প্রতিষ্ঠানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদের কোয়ালিটিপূর্ণ পড়াশুনা হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরা কঠোর হলে ছাত্ররা পড়াশুনায় থাকতে বাধ্য হবে। আপনারা প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিবেন। শিক্ষক যদি ঠিক থাকে, তাহলে অভিভাবকরা খুশি হবে। সর্বোপরি পাঠদান নিশ্চিত করবেন।
তিনি বলেন, আপনারা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রয়োজন হলে আবেদন করবেন, আমরা সুপারিশ করে আইসিটি মন্ত্রণালয় পাঠাবো। আমরা গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান  ঠিক তো সব ঠিক। তাই প্রধানকে যথাসময়ে প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে। একজন শিক্ষক কোথায় থাকে, তা দেখার বিষয় না। সে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। কোন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা আধুনিক করতে চাই আমরা।
আইন অনুযায়ী যদি কেউ প্রতিষ্ঠানে না আসে, তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন বিধি অনুযায়ী সকল ক্রাইটেরিয়া পূরন করলে তাকে স্থায়ী করে নিতে পারেন। কোন শিক্ষককে তখনই পদোন্নতি দেওয়া হবে, যখন একজন আদর্শ শিক্ষক হবে, তার পারফরমেন্স ভালো হবে। প্রধানদের ক্লাস মনিটরিং করতে হবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণ কৃষ্ণ দেবনাথ, শাহতলী কামিল মাদরাসার এডহক কমিটির আজীবন দাতা সদস্য এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।
এ সময় মাদরাসার পক্ষ থেকে অংশ নেন ও  আরো বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ওসমানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম, দাসাদী ডি.এস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুকী, চাঁদপুর আহম্মাদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, বিষ্ণুদী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জসীম উদ্দিন, কামরাঙ্গা ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের, বাগাদী আহম্মাদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ খান, গাজীপুর হরিপুর নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর মোহাম্মদ, চান্দ্রা বাজার নূরিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এবি মোস্তফা হামিদী, মান্দারী ফাযিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, চাঁদপুর আহম্মাদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য সিনিয়র  সাংবাদিক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, বাগাদী আহম্মাদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এ.কে.এম নেয়ামত উল্লাহ, শিক্ষক প্রতিনিধি সাংবাদিক মাওলানা মাহফুজ উল্লাহ খান, গাজীপুর হরিপুর নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মাওলানা মিজানুর রহমান, বিষ্ণুদী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য মোজাম্মেল, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মাওলানা আবু জাফর, ওসমানিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য নাজমুল শাহাদাত, কামরাঙ্গা ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য বিলাল হোসাইন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন মজুমদার সহ অন্যান্যরা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।