শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতাল’র উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৪৩ পিএম
মতলব উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতাল’র উদ্বোধন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় নূর-ই-রব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম। ইনসেটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম।

স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যে বাংলাদেশ রোল মডেল
—- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম

:: মনিরুল ইসলাম মনির : স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যে বাংলাদেশকে রোল মডেলে পরিণত করেছে শেখ হাসিনা সরকার বলেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় নূর-ই-রব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধনকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যে বাংলাদেশকে রোল মডেলে পরিণত করেছে শেখ হাসিনা সরকার। বাংলাদেশ সাশ্রয়ী উপায়ে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে অনন্য উদাহরণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ব্যাপক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ড. শামসুল আলম বলেন, বিখ্যাত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এক বিরাট বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করেছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা এ খাতকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, ব্যাপক চালেঞ্জ মোকাবিলা করেও স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ দারুন ভালো করছে।

স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেকসই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ফলেই মা ও শিশু-স্বাস্থ্য ভিত্তিক স্বাস্থ্য কৌশল, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি এবং কম খরচের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বাস্তবায়ন, মাঠকর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণসহ দেশের স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

Model Hospital

প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবায় এড়িয়ে আসার আহ্বান জানান। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণেও সরকার কাজ করছে।

নূর-ই-রব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা যুদ্ধকালীন আঞ্চলিক অধিনায়ক ও চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদুল আলম রব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমেদ খান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইয়াছির আরাফাত, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, যুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার মো. জসিম উদ্দিন, ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ মুসা’সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় করেন রুহুল আমিন মজুমদার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’