মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মাটি খেকু মাসুদের মিথ্যা হয়রানিমূল

মামলার প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন শেষে মানববন্ধন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৪ এম
মামলার প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন শেষে মানববন্ধন
কচুয়াতে মাটি খেকু মাসুদের মিথ্যা মামলার অত্যাচারের বিচারের দাবিতে কেশোরকোট গ্রামবাসীরা সংবাদ সম্মেলন শেষে মানববন্ধন করেছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার গোহাট দক্ষিণ ইউপির কেশোরকোট গ্রামের মক্কা টাওয়ারের সম্মুখে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা এটির আয়োজন করেন। ওই গ্রামের মামলা হামলার  ভুক্তভোগী প্রবাসী হাবিবুর রহমান তার  লিখিত বক্তব্য গণমাধ্যমের নিকট তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত মাটি খেকু মাসুদ আলম ২০২১সালে আমার জমিনের মাটি কেটে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাতে আমি রাজি না হওয়ায় সে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। পরে নানান ফন্দি এঁটে  আমার জমিনের তিন দিকের মাটি কেটে গভীর গর্ত তৈরি করে। এতে আমার ফসলি জমিনের মাটি ভেঙ্গে  ক্ষতিগ্রস্ত হই। একপর্যায়ে আমি আইনের ধারস্থ হলে ওই সময় মাটিকাটা পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয়। এতে অভিযুক্ত মাসুদ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হয়রানীর নতুন মতলব শুরু করে। ২০২৩ সালের ৩১মে মাসুদ তার মেয়েকে লেলিয়ে দিয়ে আমার মেজো ছেলে আজিজুল হাকিম রিসাদ (১৭) এর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করে। ওই সময় কথিত মামলায় ভিকটিম তার মেয়ে আদালতে ২২ ধারায় অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে। প্রেমের কারণে সে রিশাদের সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন বলেও জানান।
এরপর থেকে মাসুদ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার পরিবার সহএলাকাবাসীকে সামাজিকভাবে হেও  প্রতিপন্ন করে জর্জরিত করে। গত বছর মার্চ মাসের ১৪ তারিখ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এফ আই আর নং ১৭৫, ও ননজিআর নং ০৩/২০২৪।ওই ইউপির চেয়ারম্যান আমির হোসেন এর নিকট পাঠায়। তখন চেয়ারম্যান কয়েক দফা সমন জারি করে সূচতুর মাসুদকে তার আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে তিনি চেয়ারম্যান অভিযুক্ত মাসুদের এলাকার বিভিন্ন অপকর্ম তুলে ধরে তাকে মামলা বাজ আখ্যা দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
কিছুদিন যেতে দুরন্ত মাসুদ একটি ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে আমার ৩ পুত্রের বিরুদ্ধে আবার মামলা রুজু করে। যা পুলিশ তা জানতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ওই সময় আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশনে যাবে না মর্মে পুলিশের নিকট মুছলেকা দেয়। কিছুদিন যেতেই  ১০ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং সাহার পাড় আলিফ মেডিকেলের সামনে রাস্তার উপর আমার ছেলে রিশাদকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ গং মাথা ফাটিয়ে দেয় জখম করে। ওই সময় তার সন্ত্রাসী তৎপরতায় আহতকে কচুয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করলে তাকে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে আমি উপায়ান্তর না পেয়ে গত বছরের ২৯ শে সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর কোর্টে মামলা করি।
সে ওই মামলা ধামাচাপা দিতে একই সালের অক্টোবর আর ২৬ তারিখ আমার ২ ছেলে, স্ত্রী ও আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই সালের ২০ শে নভেম্বর আমার পক্ষে সাক্ষী হওয়া আমার ছেলের মামলার তিন নম্বর সাক্ষী রোকেয়া বেগমকে তার ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং তার মাথা ফাটিয়ে জখম করে। পরে নির্যাতনের শিকার রোকেয়া ২১ নভেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
পরে মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়ার বিরুদ্ধে ২৪ শে নভেম্বর আরো একটি মামলা দায়ের করে। ওই থেকে নানান নির্যাতন চলছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। এখন আবার আরো বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে  আমাদের প্রাণ নাশের  আশংকা করছি। একই সঙ্গে আমার মামলার সাক্ষীদেরকেও শারীরিক নির্যাতন সহ নতুন করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়াবার হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
এমতাবস্থায় আমরা ওই গ্রামের গডফাদার মাসুদ আলম গংদের অপকর্মের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তী বিচারের দাবী করছি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। ওই সময় নির্যাতনের শিকার নির্যাতিতা রোকেয়া বেগম ও বাবুল মিয়া বক্তব্য রাখেন।
তারাও মাসুদ আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। ওই মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ছাড়াও স্থানীয় ভাবে তার অত্যাচারে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।