বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল

স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল : ড. জালাল উদ্দীন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল : ড. জালাল উদ্দীন

মতলব উত্তরের ষাটনল তারাবিয়াতুল উম্মাহ মহিলা মাদরাসা বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আলহাজ¦ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন।

মতলব উত্তরের ষাটনল তারাবিয়াতুল উম্মাহ মহিলা মাদরাসা বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় উপজেলার ষাটনলে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এর আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আলহাজ¦ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা আর কোনো বৈষম্যের শিকার হতে চাই না। আমরা এই দেশের নাগরিক, আমাদের ট্যাক্সের অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। আমাদের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার, কাজের অধিকার এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পতিত স্বৈরশাসক যেন আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যই পারে দেশের সঠিক পথ নির্দেশনা দিতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দেশের প্রিয় ইসলামী বক্তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এমনকি কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, যার ফলে বহু মাদ্রাসা অর্থের অভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারেনি। বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী সরকার শুধু দেশের অর্থ লুটপাট করেছে। তাদের নেতা-কর্মীরা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, অথচ সাধারণ মানুষ একবেলা খাবারের জন্য সংগ্রাম করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। দেশের উন্নয়নে আমাদের তরুণদের শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এসময় তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন।
এসময় ছেংগারচর পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাসান বেনু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল ফরাজী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন সরকার, ষাটনল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, ছেংগারচর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক’সহ আরো অনেকে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।