শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের শুভ উদ্বোধন

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ জুন, ২০২৫, ৮:০৬ পিএম
কচুয়ায় ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের শুভ উদ্বোধন

কচুয়ায় ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ওরিয়েন্টেশন ক্লাস শেষে মুনাজাতরত অবস্থায় অতিথিবৃন্দরা।

“কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, কারিগরি শিক্ষা নিলে বিশ্ব জুড়ে কর্ম মিলে” এই স্লোগানে চাঁদপুরের কচুয়ায় ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন হয়েছে।

রবিবার দুপুরে কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া রোড হাজী আলী আজ্জম ভবনের ৩য় তলায় ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপক পরিচালক প্রকৌশলী দুলাল রায়ের সভাপতিত্বে ও ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন নিশ্চিন্তপুর ডি এস কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

তিনি বলেন, আমরা একবিংশ শতাব্দীতে অবস্থান করছি, যে শতাব্দীকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে টিকে থাকতে হলে কম্পিউটার ও আইসিটি জ্ঞান অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটেই এই ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট চালু করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের, যুব সমাজকে এবং আগ্রহী জনসাধারণকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নিশ্চিন্তপুর ডি এস কামিল মাদ্রাসার সহকারি প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন, চাঁদপুর পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, কচুয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম, তেতৈয়া হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোঃ শাহজাহান, শ্রীরামপুর হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোঃ জসীম উদ্দীন ও মোঃ শিব্বির।

Model Hospital

ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ মিয়া জানান, আমাদের এই সেন্টারে থাকছে যেমন: ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অফিস অ্যাপ্লিকেশনস, ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইনস এবং এর পাশাপাশি আমরা ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং, মেসন (রাজমিস্ত্রী) ,ওয়েল্ডিং, প্লাম্বিং, রড বাইন্ডিং ও পেইন্টিং কোর্স চালু করব। এই প্রতিষ্ঠান এর প্রশিক্ষনার্থীরা যাতে দেশের বাহিরে গিয়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারে আমরা সেই ভাবে প্রশিক্ষনার্থীদের গড়ে তুলবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রশিক্ষকরা অভিজ্ঞ এবং আন্তরিক। আমরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতা গড়ে তোলার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিই। আমি আশা করি, এই ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই নিজের ক্যারিয়ার গড়বে, চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে স্বনির্ভর হবে, এমনকি উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে। সবশেষে, আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করছি, যেন এই সেন্টার দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া ক্যামব্রিয়ান স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির হোসেন। পালগিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জন, ইনোভেশন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী, তেগুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদাত হোসেন,কচুয়া মডেল মসজিদ ইমাম মোহাম্মদ হোসেন সহ ওরিয়েন্টেশন সকল ছাত্র-ছাত্রীরা প্রমুখ।

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।