রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বিএনপির দু গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির বিবৃতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম
মতলব উত্তরে বিএনপির দু গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির বিবৃতি

‘দলীয় চেইন অব কমান্ড ও নেতৃত্বকে অবজ্ঞা করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে দলের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান’

মতলব উত্তরে ঘটে যাওয়া বিএনপির দু গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বশির আহমাদ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক জিতু যৌথ এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে শুধুমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী কতিপয় নেতা অন্তঃকোন্দল ও আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত পছন্দের লোকবল দিয়ে দল ও দলীয় কাঠামো এবং নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে, সাংগঠনিক কোনোরকম নিয়ম-নীতি না মেনে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটা ইউনিটে দলীয় কমিটি আছে। কিন্তু দলীয় কমিটিকে না জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করার কারণে সাংঘর্ষিক রূপ নিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর্মী ও সমর্থকগণ অকারণে বিভক্ত হচ্ছে। পক্ষান্তরে ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে তাদের অবস্থান সংহত করতে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা দলকে ভালোবাসি, আমরা দলের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। একমাত্র ঐক্যবদ্ধ দলই পারে সকল সমস্যার সমাধান করতে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়’। আমাদের দিলের ভেতর এই কথাটা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ মোতাবেক মতলব উত্তরে সাংগঠনিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। আমরা কোনোরকম দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ দেখতে চাই না। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ভেতর থেকে, সংগঠনের গঠনতান্ত্রিক নিয়মকানুন মেনে। আমরা যারা গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামত দল করার চেষ্টা করছি তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, সংগঠনবিরোধী এ সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন, দলকে ভালবাসুন, ব্যক্তিকে ভালবাসার চেয়ে দলকে বেশি ভালোবাসুন, দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সাংগঠনিক নিয়মকানুন মেনে সংগঠনকে শক্তিশালী করুন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটাই, কীভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করা যায়। ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু সবার ঊর্ধ্বে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্যে এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো–এটাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এজন্যে আমরা সতর্ক থাকবো, যেনো ফ্যাসিবাদের দোসর এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও দুষ্কৃতকারীরা আমাদের দলে অনুপ্রবেশ করে অন্তঃকোন্দল সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের ফায়দা হাসিল করার চেষ্টায় যেনো সফল না হয়।

আপনাদের সকলকে আমাদের সাথে দলীয় সাংগঠনিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে পরম সহিষ্ণুতা, ঐক্য ও দলের প্রতি আনুগত্য আশা করছি। আসুন দলকে ভালোবাসি, জনগণের সঙ্গে থাকি, জনগণকে ভালোবাসি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীকে ভালোবাসি, দলের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থাকি, প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে সাংগঠনিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, নির্বাচনের সময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাই। আমাদের সামনের পথ চলার রাহবার হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে অনুসরণ করি, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে চলি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ সময়ে এসে আমাদের কাছে প্রত্যাশা করছেন ঐক্যবদ্ধ বিএনপি। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনের আশা পূরণ করার শপথ গ্রহণ করি। ৩১ দফাকে জনগণের মাঝে প্রচার করি।

Model Hospital

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অমর হোক, আমাদের নেতা তারেক রহমান জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।