ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ৫শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যে দিকে চোখ যায় মাঠে শুধু হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। ব্যস্ততা বেড়েছে মৌচাষিদের মধু সংগ্রহে। এ দৃশ্য দেখে চাষিদের মণ ভরে ওঠে।
মাঠে মাঠে বিস্তর এলাকা জুড়ে সরিষার ব্যাপক চাষ-আবাদ হয়েছে। হলুদ ফুলে ভরে আছে জমিগুলো। ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ সকল প্রকৃতির প্রেমিককে। এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে, ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ উপজেলার বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের কৃষি মাঠে সরিষা ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। চারদিকে তাকালে যেন সবুজের ফাকে হলুদের সমাহার। কখনো কখনো সরিষার ক্ষেতে বসছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে এবং ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ মেট্রিকটন। সেই সাথে আমাদের প্রায় ৭০/৭৫ টি সরিষার প্রদর্শনী রয়েছে।

উপজেলার বলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে আমার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছি। আমারমত আরো অনেক কৃষক সরিষার ফলন করেছে।

পাতানিশ গ্রামের কৃষক ফজলুল হক, চাঁন মিয়া, কবির মিজিও প্রায় শতাধিক হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছে। এবারের শীত মৌসুমে ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্নের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসেনন, ছবি তোলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুন-তরুনীরা নিজেদের ক্যামেরা ও ভিডিওর মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি তুলছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, উপজেলার উচু জমির পাশা পাশি পলি অঞ্চলে বন্যার পর মাটির উবর্রতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার উৎপাদন সম্ভব। সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে ও কোনো রকম রোগ বালাই না ধরলে, সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সরকারের সরিষা প্রনোদনা থাকায় সরিষা আবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে অনেকটাই। সেই সাথে আমরা একাধিক প্রদর্শনী করেছি। সরিষার আবাদ উঠার পর কিছু জমিতে বিলম্বে ধান রোপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

হাজীগঞ্জে ৫শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সাইফুল ইসলাম সিফাত : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যে দিকে চোখ যায় মাঠে শুধু হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। ব্যস্ততা বেড়েছে মৌচাষিদের মধু সংগ্রহে। এ দৃশ্য দেখে চাষিদের মণ ভরে ওঠে।
মাঠে মাঠে বিস্তর এলাকা জুড়ে সরিষার ব্যাপক চাষ-আবাদ হয়েছে। হলুদ ফুলে ভরে আছে জমিগুলো। ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ সকল প্রকৃতির প্রেমিককে। এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে, ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ উপজেলার বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের কৃষি মাঠে সরিষা ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। চারদিকে তাকালে যেন সবুজের ফাকে হলুদের সমাহার। কখনো কখনো সরিষার ক্ষেতে বসছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে এবং ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ মেট্রিকটন। সেই সাথে আমাদের প্রায় ৭০/৭৫ টি সরিষার প্রদর্শনী রয়েছে।

উপজেলার বলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে আমার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছি। আমারমত আরো অনেক কৃষক সরিষার ফলন করেছে।

পাতানিশ গ্রামের কৃষক ফজলুল হক, চাঁন মিয়া, কবির মিজিও প্রায় শতাধিক হেক্টর জমিতে সরিষার ফলন করেছে। এবারের শীত মৌসুমে ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্নের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসেনন, ছবি তোলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুন-তরুনীরা নিজেদের ক্যামেরা ও ভিডিওর মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি তুলছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, উপজেলার উচু জমির পাশা পাশি পলি অঞ্চলে বন্যার পর মাটির উবর্রতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার উৎপাদন সম্ভব। সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে ও কোনো রকম রোগ বালাই না ধরলে, সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সরকারের সরিষা প্রনোদনা থাকায় সরিষা আবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে অনেকটাই। সেই সাথে আমরা একাধিক প্রদর্শনী করেছি। সরিষার আবাদ উঠার পর কিছু জমিতে বিলম্বে ধান রোপনের সম্ভাবনা রয়েছে।