শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শাহাদাতে কারবালার স্মরণ সভায় ওলামায়ে আহলে সুন্নাত

মহররম ও রবিউল আউয়াল মাস আসলে মুমিন-মুনাফিক চেনা যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫, ৭:৪৫ পিএম
মহররম ও রবিউল আউয়াল মাস আসলে মুমিন-মুনাফিক চেনা যায়

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুনাজাতরত নেতৃবৃন্দ।

১০ মহররম পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শাহাদাতে কারবালা তথা আহলে বাইতে রাসুলগণের স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, চাঁদপুর সদর ও পৌর কমিটির আয়োজনে সংগঠনের জেলা অফিসে রোববার (৬ জুলাই) সকালে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, চাঁদপুর পৌর কমিটির সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চাঁদপুর জেলার সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন আল-কাদেরী। বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর পৌর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রউফ খান, মতলব উত্তর উপজেলা ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহমাদুল্লাহ, মাওলানা জাফর আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল-আমিন সাকি প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চাঁদপুর জেলা সভাপতি বজলুর রশিদ সোহেল।

Model Hospital

বক্তাগণ পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম, আর তৃতীয় মাস হচ্ছে রবিউল আউয়াল। এই দুটি মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্ব বহন করে। এই দুটি পবিত্রতম মাসে মুমিন এবং মুনাফিক চেনা যায়, পার্থক্য করা যায়। মুসলমান নামধারী মুনাফিকরা কারবালার চেতনা বিরোধী।

আহলে বাইতে রাসুলকে ভালোবাসার নাম যে ঈমান, তা ইয়াজিদের অনুসারী মুনাফিকরা মানতে চায় না। অথচ কোরআনেই আহলে বাইতকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। তারা ইয়াজিদকে ভালোবাসে, ইয়াজিদকে কাফির বলা যাবে না, ইয়াজিদের উপর লা’নত দেয়া যাবে না আকীদা পোষণ করে।

আর এ ধরনের আকীদা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা বিরোধী। তারা হচ্ছে ইয়াজিদপ্রেমী মুসলমান। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী সুন্নী মুসলমানরা হচ্ছেন হোসাইনী মুসলমান। ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইয়াজিদ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে সর্বশেষ ভাষণে বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে কি একজনও মুসলমান নাই? অথচ ইয়াজিদ বাহিনীর সংখ্যা ছিল ২২ হাজার মতান্তরে ৩০ হাজার। এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে অসংখ্য হাফেজে কোরআন ছিলো, মুহাদ্দিস ছিলো, মুফতি ছিলো, আলেম ছিল। কিন্তু ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা আনহুর ভাষণের দ্বারা বুঝা গেলো তাদের কেহই ঈমানদার মুসলমান নয়। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হাসান এবং হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা আনহুমা সম্পর্কে বলেছেন, ‘যারা আমার হাসান হোসাইনকে ভালোবাসবে তারা আমাকে ভালোবাসলো। আর যারা হাসান হোসাইনের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে, তারা আমি নবীর সাথেও শত্রুতা পোষণ করল। হে আল্লাহ! আমি হাসান হোসাইন দুজনকে ভালোবাসি, আপনিও তাদেরকে ভালোবাসেন।’ ঠিক একইভাবে রবিউল আউয়াল মাস আসলে মুমিন-মুনাফিক চেনা যায়। এই মাসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভাগমন হয়েছে, এ উপলক্ষে নবী প্রেমিক সুন্নী মুসলমানরা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করে থাকে। আর ইয়াজিদের অনুসারী মুনাফিক মুসলমানরা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনকে বিদআত, নাজায়েজ বলে। অতএব, মহররম এবং রবিউল আউয়াল মাসে মুমিন এবং মুনাফিক চেনা যায়।
বক্তাগণ বলেন, আহলে বাইতকে ভালোবাসা হচ্ছে ঈমান। আর আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ রাখা হচ্ছে কুফরি। সকল সাহাবা সত্যের মাপকাঠি, জান্নাতি। সাহাবায়ে কেরামগণ হচ্ছেন আকাশের তারকারাজির ন্যায়। তাঁদের যে কাউকে অনুসরণ করবে, বান্দা হেদায়েত লাভ করবে। আর প্রিয়নবীর আহলে বাইতগণ হচ্ছেন হজরত নূহ আলাইহিসসালামের কিশতি তথা নৌকার ন্যায়। অর্থাৎ যারা নূহ আলাইহিসসালামের নৌকায় আরোহন করেছে, তারাই মহাপ্লাবন থেকে নাজাত পেয়েছে। তদ্রূপ যারা আহলে বাইতকে মহব্বত করবে, ভালোবাসবে, তাঁদের দামানকে আঁকড়ে ধরবে, তারাই নাজাত পাবে। আর এই আকীদার বিরোধী হচ্ছে শিয়া এবং খারেজি, নাসেবী, রাফেজিরা। আর সুন্নী মুসলমানরা শিয়াজম এবং খারেজিবাদ থেকে মুক্ত।

বক্তাগণ ইসলামের এসব মৌলিক আকীদার বিষয়গুলো মুসলিম উম্মাহর মাঝে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।

আলোচনার শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ রফিকুল ইসলাম। নাতে রাসুল এবং শানে ইমাম হোসাইন পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং অর্থ সম্পদাদক আলী হায়দার। সবশেষে মিলাদ কিয়াম, মুনাজাত এবং তবররুক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর নাতে রাসুল, শানে ইমাম হোসাইন, কবিতা আবৃত্তি এবং মিলাদ কিয়াম পরিবেশনা এক আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকে আহলে বাইতের প্রেমে অশ্রুসিক্ত হন।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।