শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিচার পাওয়ার আশায় তার পরিবার ও স্বজনেরা

কচুয়ায় গৃহবধূ শাহনাজ হত্যার ১৪ বছর পর আদালতে মামলা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ৭:২৯ পিএম
কচুয়ায় গৃহবধূ শাহনাজ হত্যার ১৪ বছর পর আদালতে মামলা
চাঁদপুরের কচুয়ার সফিবাদ গ্রামে গৃহবধূ শাহনাজ বেগম হত্যার ১৪ বছর পর ন্যায় বিচার চেয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে চাঁদপুরের মোকাম বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গৃহবধূ শাহনাজ বেগমের ভাই দাউদকান্দি উপজেলার পিপিয়াকান্দি গ্রামের মো. শাহ আলমের পুত্র মোহাম্মদ মনির বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। যার সি.আর মামলা নং ৪৬১/২০২৫। মামলায় কচুয়া উপজেলার সফিবাদ গ্রামের মিয়াজী বাড়ির নুর মোহাম্মদ মিয়াজীর পুত্র মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মিয়াজী (৩৭), তার ভাই  আলাউদ্দিন মিয়াজী (৪০) ও তাদের মা আয়েশা বেগম (৬০)কে আসামী করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে ও স্থানীয় ভাবে জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলার পিপিয়াকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ শাহ আলমের মেয়ে শাহনাজ বেগমের সাথে ১৯৯৯ সালে কচুয়া উপজেলার সফিবাদ গ্রামের মনজিল হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের গৃহে নাজনীন আক্তার ও ইয়াছমিন আক্তার নামের ২টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
এর মধ্যে নাজনীন আক্তারের বর্তমানে বয়স ২৪ ও ইয়াছমিনের বয়স ২১ বছর। মনজিল হোসেন আগ থেকেই সৌদি আরবে ছিলেন। এরই ফাঁকে একই বাড়ির ১নং বিবাদী নাসির উদ্দিন মিয়াজী ভিকটিম শাহনাজ বেগমের সাথে বিভিন্নভাবে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এতে ভিকটিম প্রত্যাখ্যান করলে নাসির উদ্দিন মিয়াজী বেপরোয়া হয়ে উঠে। এক সময়ে ভিকটিমের স্বামী মনজিল মিয়াজী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসে সুখে শান্তিতে তাদের সংসার জীবন চলছিল।
পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন মিয়াজী ভিকটিমের স্বামী মনজিল হোসেনের উপর ক্ষুব্ধ হতে থাকেন এবং ভিকটিমকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ও প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ভিকটিমের স্বামী মনজিল হোসেনকে জরুরি কথা আছে বলে বাড়ির পাশে ধান চিড়ানো রাইস মেইলে নিয়ে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে দেন। যার ফলে মনজিল মিয়াজী জ্ঞান হাড়িয়ে ফেললে নাসির উদ্দিন মিয়াজী সু-কৌশলে শাহনাজ বেগমের গৃহে গিয়ে জোড় পূর্বক তাকে ধর্ষন করে।
এক পর্যায়ে নাসির উদ্দিন মিয়াজী তার ভাই আলাউদ্দীন মিয়াজী ও তার  মায়ের প্রত্যক্ষ  এবং পরোক্ষ সহায়তায় তাকে গলা চিপে শ্বাসরোধ করে  হত্যা করে অপমৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালায়। নাছির উদ্দীন মিয়াজী তার ভাই এবং মায়ের সহায়তায় পূনরায় রাইসমিলে ঘুমন্ত মনজিলকে নেশা জাতীয় চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে সুকৌশলে লাশের পাশে রেখে ভিকটিমের বাবা ও বড় বোনকে প্রথমে অসুস্থর কথা বলেন কিন্তুু পরোক্ষণে মারা গেছেন বলে জানান।
শুধু তাই নয়,নাছির মিয়াজী বাড়ির সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে সে আত্নগোপনে চলে যান। নাছির উদ্দীন মিয়াজী পূর্বের মামলার অন্যতম সাক্ষী হয়েও  থানা এবং আদালতে ভয়ে উপস্থিত না হয়ে পালিয়ে  বেড়ান।
ওই সময়ে বিবাদীগন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে গৃহবধূ শাহনাজের বাবা মো.শাহ আলমকে প্ররোচনায় ফেলে মনজিল মিয়াজীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং মনজিল মিয়াজীকে সুকৌশলে মামলা থেকে দুরে সরিয়ে রেখে তার জমিন,বাড়ির জায়গা ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে মনজিলকে বাধ্য করেন এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়াতে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার জানতে পারেন ওই ঘটনার সাথে শাহনাজ বেগমের স্বামী মনজিল জড়িত নয় এবং প্রাথমিকভাবে অনেক প্রমানও পান।

মামলার বাদী মোহাম্মদ মনির জানান, আমার বোনকে প্রায় ১৪ বছর আগে বিবাদী নাসির উদ্দিন মিয়াজী সুকৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে অপমৃত্যু বলে অপপ্রচার চালায়। আমার বিশ্বাস আমিসহ আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই আমরা ন্যায় বিচার পাবো।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।