বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ট্রাকসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ২:৫২ পিএম
হাজীগঞ্জে ট্রাকসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘটিত একটি ডাকাতি মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত দুইটি ট্রাক এবং তালা কাটার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের হয়েছিল গত ১৮ জুন হাজীগঞ্জ থানায়, মামলা নম্বর-১৪, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোডে। পুলিশ হেফাজতে থাকা আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সিরাজ মিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ জুলাই থেকে দেশের চারটি জেলায় অভিযান চালায় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।

অভিযান পরিচালিত হয় বগুড়া, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলায়। এ সময় বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকা থেকে পটুয়াখালীর গলাচিপার বাসিন্দা মো. সাহাব উদ্দিন ওরফে সাবুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে দুইটি ট্রাক ও বড় আকারের একটি তালা কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরে সাহাব উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে দিনাজপুরের রতন ওরফে কালু (৩৬) এবং একই জেলার গলাচিপার মো. জামাল খান (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন ফারুক জানান, “গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫টি, কালুর বিরুদ্ধে ২টি এবং জামাল খানের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।”

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুইটি ট্রাক ও একটি বড় তালা কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।

হাজীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তঃজেলা ডাকাতি চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান চলমান রয়েছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।