ছাত্র রাজনীতির বদলে যাওয়া চিত্র
শাহরাস্তিতে ছাত্রদলের নেতৃত্বে গড়ে উঠছে কর্মনির্ভর আদর্শবাদী প্রজন্ম
যেখানে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ছাত্র রাজনীতি মানেই হিংসা, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার—সেই বাস্তবতার মাঝেও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদল তৈরি করছে এক ব্যতিক্রমী, প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এখানকার ছাত্রনেতারা প্রমাণ করছেন, শিক্ষা, কর্মজীবন ও রাজনীতি—এই তিন ধারার সুসমন্বয় ঘটিয়েও গড়া যায় এক আত্মনির্ভর, নীতিনিষ্ঠ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব।

★ আদর্শের পাঠশালায় নেতৃত্ব গড়ার উদ্যোগ

শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ একজন সফল চাকরিজীবী। তাঁর ভাষায়, “ছাত্র রাজনীতি আমার কাছে কেবল মতাদর্শ নয়—এটি নেতৃত্বের বাস্তব পাঠশালা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই আমি রাজনীতির প্রকৃত রূপ খুঁজে পাই।”

সদস্য সচিব মো. আজগর হোসেন মিয়াজি একজন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠক। যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফজাল হোসেন, শাহ নেওয়াজ টিপু, মো. ইব্রাহিম ও শামীম আশরাফ এঁরা প্রত্যেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন নিজ নিজ পেশায়। কেউ ব্যবসায়, কেউ কর্পোরেট সেক্টরে, কেউবা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দেখাচ্ছেন নেতৃত্ব মানে কেবল মিছিল নয়, দায়িত্বও।

★পৌর নেতৃত্বে আত্মমর্যাদার রাজনীতি
শাহরাস্তি পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে। তিনি বলেন, “রাজনীতি করি মানুষের অধিকার আদায়ে। নিজের উপার্জনে জীবন চালাই যাতে নীতির সঙ্গে আপস করতে না হয়।”
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমাম হোসেন ও সদস্য সচিব তানভির হোসেন সোলায়মান-ও ব্যক্তিগত কর্মজীবনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তাঁদের কাছে নেতৃত্ব মানে সততা, আদর্শ ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন।
★ ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বে শিক্ষার সঙ্গে পেশার সমন্বয়
সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের গাজী সানি, সূচীপাড়া দক্ষিণের নূর নবী দিপু, রায়শ্রী উত্তরের গাজী আবু সালেহ ও জাহিদ হাসান ফয়সাল তাঁরা সবাই শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি টেলিকম, আইটি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, সেলস-মার্কেটিং ইত্যাদি খাতে সক্রিয়। তাঁদের পথচলা দেখায়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত থাকা।
জানা গেছে, শাহরাস্তি ছাত্রদলের প্রায় ৬০ শতাংশ নেতাকর্মী কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন প্রাইভেট চাকরিজীবী, ৫ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ৪ জন মার্কেটিং খাতে, এবং আরও অনেকে সেবামূলক পেশায় বা উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
➤ প্রবাসে থেকেও রাজনৈতিক অঙ্গীকার অটুট
৫ আগস্টের আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শাহরাস্তির ছাত্রদলের অনেক নেতাকে দেখা গেছে জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে যেতে। চিতোষী ইউনিয়নের মহিউদ্দিন, টামটা উত্তরের জুয়েল হোসেনসহ ৭-৮ জন নেতাকর্মী বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। বিদেশে থেকেও তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশে ফিরে আবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
✪ ভিন্ন ধারা, আশাবাদের দিগন্ত
শাহরাস্তির এই ছাত্রনেতারা রাজনীতিকে দেখছেন স্বার্থসিদ্ধির পথ নয়, বরং সমাজ গঠনের হাতিয়ার হিসেবে। তাঁদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা গড়ে উঠছে শিক্ষা, পেশা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণের ভিত্তিতে।
স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা মনে করেন-
“এই তরুণদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, আত্মনির্ভরতা এবং নীতির প্রতি নিষ্ঠা। যদি এ ধারাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তবে ছাত্র রাজনীতি আবারো ফিরে পাবে তার হারানো মহিমা।”
শাহরাস্তির ছাত্রদল দেখাচ্ছে- ছাত্র রাজনীতি হতে পারে গঠনমূলক, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও সমাজবান্ধব। এখানে রাজনীতি মানে দায়িত্ব, নেতৃত্ব মানে সেবা। এই চর্চা শুধু একটি দলের নয়, বরং গোটা দেশের ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্যই এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।





