বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্র রাজনীতির বদলে যাওয়া চিত্র

শাহরাস্তিতে ছাত্রদলের নেতৃত্বে গড়ে উঠছে কর্মনির্ভর আদর্শবাদী প্রজন্ম

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম
শাহরাস্তিতে ছাত্রদলের নেতৃত্বে গড়ে উঠছে কর্মনির্ভর আদর্শবাদী প্রজন্ম

যেখানে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ছাত্র রাজনীতি মানেই হিংসা, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার—সেই বাস্তবতার মাঝেও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদল তৈরি করছে এক ব্যতিক্রমী, প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এখানকার ছাত্রনেতারা প্রমাণ করছেন, শিক্ষা, কর্মজীবন ও রাজনীতি—এই তিন ধারার সুসমন্বয় ঘটিয়েও গড়া যায় এক আত্মনির্ভর, নীতিনিষ্ঠ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব।

আদর্শের পাঠশালায় নেতৃত্ব গড়ার উদ্যোগ

শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ একজন সফল চাকরিজীবী। তাঁর ভাষায়, “ছাত্র রাজনীতি আমার কাছে কেবল মতাদর্শ নয়—এটি নেতৃত্বের বাস্তব পাঠশালা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই আমি রাজনীতির প্রকৃত রূপ খুঁজে পাই।”

সদস্য সচিব মো. আজগর হোসেন মিয়াজি একজন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠক। যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফজাল হোসেন, শাহ নেওয়াজ টিপু, মো. ইব্রাহিম ও শামীম আশরাফ এঁরা প্রত্যেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন নিজ নিজ পেশায়। কেউ ব্যবসায়, কেউ কর্পোরেট সেক্টরে, কেউবা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দেখাচ্ছেন নেতৃত্ব মানে কেবল মিছিল নয়, দায়িত্বও।

Model Hospital

পৌর নেতৃত্বে আত্মমর্যাদার রাজনীতি

শাহরাস্তি পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে। তিনি বলেন, “রাজনীতি করি মানুষের অধিকার আদায়ে। নিজের উপার্জনে জীবন চালাই যাতে নীতির সঙ্গে আপস করতে না হয়।”

পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমাম হোসেন ও সদস্য সচিব তানভির হোসেন সোলায়মান-ও ব্যক্তিগত কর্মজীবনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তাঁদের কাছে নেতৃত্ব মানে সততা, আদর্শ ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বে শিক্ষার সঙ্গে পেশার সমন্বয়

সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের গাজী সানি, সূচীপাড়া দক্ষিণের নূর নবী দিপু, রায়শ্রী উত্তরের গাজী আবু সালেহ ও জাহিদ হাসান ফয়সাল তাঁরা সবাই শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি টেলিকম, আইটি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, সেলস-মার্কেটিং ইত্যাদি খাতে সক্রিয়। তাঁদের পথচলা দেখায়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত থাকা।

জানা গেছে, শাহরাস্তি ছাত্রদলের প্রায় ৬০ শতাংশ নেতাকর্মী কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন প্রাইভেট চাকরিজীবী, ৫ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ৪ জন মার্কেটিং খাতে, এবং আরও অনেকে সেবামূলক পেশায় বা উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

প্রবাসে থেকেও রাজনৈতিক অঙ্গীকার অটুট

৫ আগস্টের আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শাহরাস্তির ছাত্রদলের অনেক নেতাকে দেখা গেছে জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে যেতে। চিতোষী ইউনিয়নের মহিউদ্দিন, টামটা উত্তরের জুয়েল হোসেনসহ ৭-৮ জন নেতাকর্মী বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। বিদেশে থেকেও তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশে ফিরে আবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

ভিন্ন ধারা, আশাবাদের দিগন্ত

শাহরাস্তির এই ছাত্রনেতারা রাজনীতিকে দেখছেন স্বার্থসিদ্ধির পথ নয়, বরং সমাজ গঠনের হাতিয়ার হিসেবে। তাঁদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা গড়ে উঠছে শিক্ষা, পেশা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণের ভিত্তিতে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা মনে করেন-

“এই তরুণদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, আত্মনির্ভরতা এবং নীতির প্রতি নিষ্ঠা। যদি এ ধারাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তবে ছাত্র রাজনীতি আবারো ফিরে পাবে তার হারানো মহিমা।”

শাহরাস্তির ছাত্রদল দেখাচ্ছে- ছাত্র রাজনীতি হতে পারে গঠনমূলক, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও সমাজবান্ধব। এখানে রাজনীতি মানে দায়িত্ব, নেতৃত্ব মানে সেবা। এই চর্চা শুধু একটি দলের নয়, বরং গোটা দেশের ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্যই এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।