সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় অপরিকল্পিত রাস্তাঘাটের ফলে কমছে কৃষি জমি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৩:২১ পিএম
কচুয়ায় অপরিকল্পিত রাস্তাঘাটের ফলে কমছে কৃষি জমি

নিজস্ব প্রতিনিধি : কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মানে কৃষি জমি কমে হ্রাস পাচ্ছে। কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া, দরিয়া হায়াতপুর, পালাখাল, বিতারা, বাইচারা, সাচার, ডুমুরিয়া, রহিমানগর, আশ্রাফপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির উপর রাস্তা নির্মাণের ফলে সেখানে বাধ সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গ্রামের পশ্চিম পাশের কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের ফলে ওই এলাকার কৃষকরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফসলি জমিতে রাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার কারনে ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আর যত্রতত্র রাস্তা করার কারনে পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরপুর সড়কের কড়ইয়া অংশ হইতে কড়ইয়া জমির মিয়াজীর বাড়ির রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ১৫শ ফুট রাস্তা অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমির পাশের সরকারি হালট ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের দাবী এই রাস্তাটি তাদের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়েছে।

এই রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে মনির হোসেন মিয়াজী বাদী হয়ে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মনির হোসেন উল্লেখ করেন, আমি একজন প্রবাসী। প্রবাসে থাকার সুযোগে আমার দখলীয় জমির মধ্যখানে হইতে জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তার করে মাটি কাটিয়া রাস্তা নির্মাণ করার পায়তারা করিয়া আসছে বিবাদী জাহাঙ্গীর আলম। খবর পেয়ে আমি প্রবাস থেকে দেশে আসিয়া আমি ও আমার পরিবারবর্গ আমার জমি থেকে মাটি কাটতে বাধা প্রদান করিলে আমাদেরকে মারধর করিবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি ও ধমকি প্রদর্শন করে জাহাঙ্গীর আলম।

Model Hospital

গত শুক্রবার সকালে বিবাদী কাজের শ্রমিক নিয়ে আমার দখলীয় জমির মধ্যখানে হইতে মাটি কাটিয়া রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বিবাদীদেরকে বাধা প্রধান করিলে বিবাদীরা আমাদেরকে মারধর করার জন্য লাঠিসোঠা নিয়ে দৌড়াইয়া আসে।

মনির হোসেন মিয়াজী জানান, এলাকার ব্যাকসাইডে এই রাস্তাটি নির্মান করা হয়েছে। যার দরুন এই রাস্তাটি দিয়ে এলাকার মানুষের কোন উপকারতো হচ্ছেই না বরং কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে। এই রাস্তাটি জাহাঙ্গীর মোল্লা পৌরসভার বাজেট দিয়ে করার কথা বললেও মূলত কোন প্রকার বাজেট ছাড়াই সে রাস্তাটি তার ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজে ব্যবহারের জন্য সরকারি খাস জমির উপর দিয়ে নির্মান করে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছে। তাছাড়া আমি প্রবাসে থাকায় সে আমার ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে জমিটিকে ডোবায় পরিনত করেছে। এখন আবার একই জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তাটির কিছু বাকী অংশ নির্মান করার চেষ্টা করলে আমি তাতে বাধা প্রয়োগ করি। ফলে সে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।তাই আমি নিজের নিরাপত্তার স্বার্র্থে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

১৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) বিকেলে সরজমিনে গেলে কড়ইয়া পশ্চিমপাড়া সোনা মিয়া গাজীর ছেলে কৃষক আমির হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা এই মাঠে আগে দুই থেকে তিনটি ফলন সহ সবজি চাষ করতাম। কিন্তু আমাদের মাঠে উপর দিয়ে কড়ইয়া মহাসড়কের অংশ হইতে কড়ইয়া জমির মিয়াজীর বাড়ির রাস্তার মাথা পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মান করায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার দরুন এখন আর আমরা ইরি বোরো ধান ছাড়া আর কোন ফসল করতে পারি না। এই রাস্তাটি হওয়ার দরুন আমাদের উপকার থেকে অপকার বেশি হয়েছে।

কৃষক আ: রহিম, সাব্বির আহমেদ, বাচ্চু মিয়া ও আবুল হোসেন জানান, ২০১৮ সালে রাস্তাটি নির্মানের পূর্বে আমাদের এই মাঠে ফসল চাষে কোন সমস্যা ছিল না।আমরা মটর ডাল, শরিষা, আলু, ধান, লাল শাকসহ বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করতাম। কিন্তু এই রাস্তাটির কারনে মাঠের পানি সরতে না পারায় আমরা খুব সমস্যায় আছি। আমরা এখন ইরি ধান ছাড়া আর কিছুই চাষাবাদ করতে পারি না।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি জনগনের প্রতিনিধি। এলাকার জনগনের স্বার্থে মেয়র মহোদয়ের প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে ১৫শত ফুট রাস্তার নির্মান শুরু করি। রাস্তার কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার সাথে এই রাস্তাটি সংযুক্ত করা হয়েছে।গত বর্ষায় রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফাটলের সৃষ্টি হলে উক্ত রাস্তার মেরামত কাজের সংস্কার হিসেবে রাস্তার উভয় পাশের জমি থেকে আংশিক মাটি উত্তোলন করে রাস্তাটি মেরামত করি।নতুন এই রাস্তাটি হওয়ায় এ এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক দিদারুল আলম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, কচুয়া উপজেলায় এই মূহুর্তে কৃষিতে প্রধান সমস্যা অপরিকল্পিতভাবে বাধ দিয়ে মাচের চাষ এবং খালগুলো বেদখল। যার ফলে প্রতিবছর প্রত্যক্ষভাবে ৫হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সবজি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পরছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

শাহমাহমুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির আলোচনা সভা

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
শাহমাহমুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির আলোচনা সভা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আলোচনা সভা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলী ঢালী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিয়েছেন ৮৩ জন। কিন্তু এ ইউনিয়নটিতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন মাত্র ১৩ জন। বাকী ৭০ জনই বাদ পরবেন। তাই চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশনায় বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, মাদকের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। তাই এমপি মহোদয়ের মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের ডোপ টেষ্ট বাধ্যতামূলক। সেই রিপোর্ট উপজেলা বিএনপি বরাবর দাখিল করতে হবে। এমনকি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কোন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে, তাদেরকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা বিএনপি বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত গণতান্ত্রিক আনন্দোলন সংগ্রামে যে সকল নেতৃবৃন্দ নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং হাইব্রিড প্রার্থীদের আগামী ৫ বছর দলের কাজ করার পর তাদেরকে পরবর্তী নির্বাচনে বিবেচনা করা হবে। সেই সাথে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার প্রার্থী হতে পারবেন না। যে সকল নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সে সকল নেতাকর্মী প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নাই। জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপি’র সমন্বয়কবৃন্দ একক প্রার্থী নির্ধারণে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সমন্বয়ক আক্তার হোসেন সাগর, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদল নেতা জুলহাস আহমেদ জুয়েল, পৌঁর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি কাউছার আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আল ফারুক শাহরিয়ার প্রমূখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন মল্লিক, সহ সভাপতি এস এম বাকের খন্দকার, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাহিদ খান, সহ সভাপতি মোশাররফ কারী, নজরুল ইসলাম বাবলু, দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাবেক সহ সভাপতি কবির হোসেন রনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল দেওয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল মল্লিক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহীন হাওলাদার, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল খান।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব গাজী, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম হাজী, অলিউল্লাহ গাজী, শাহ মাহমুদ সেলিম হাজী, কাসিম গাজী, যুবদল নেতা শওকত কারী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গাজী নূর আলম, যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ছাত্রদল নেতা সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী পারুল আক্তার, ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মল্লিক, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি সোহাগ খান, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আলমগীর খান সহ ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডের বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।