সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা নারী, মামলায় আটক-১

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা নারী, মামলায় আটক-১
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ। তার নাম সাহানাজ বেগম (৪০)। তিনি দুই সন্তানের জননী। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ নাছিমা বেগম নামের এক নারীকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের উপাধিক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন রাতেই নিজ বাড়ির পাশে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আগুনে পুড়ে যান সাহানাজ বেগম। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
সাহানাজের স্বামী মো. আমিন মিয়া জানান, ঘটনার সময় রান্নাঘরে আগুন লাগে। এ সময় তাঁদের ১২ বছরের মেয়ে সুমাইয়ার চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সুমাইয়া তার মাকে খুঁজতে থাকেন। পরে রান্নাঘরের পেছনে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আগুনে ঝলসানো সাহানাজকে পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, ইতিপূর্বে আমার স্ত্রী ও আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যের টয়লেটের বদনায় মরিচের গুঁড়ো এবং আমার বসত ঘরে তাদেরকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাহানাজ বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী হাফেজ ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী নাছিমা বেগমের সুদের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিস হয়েছে এবং থানায় ও আদালতে মামলাও হয়েছে। এর আগেও সাহানাজ ও তাঁর পরিবারকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক এই হামলার নেপথ্যে নাছিমা বেগমই জড়িত।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, এ ঘটনায় সাহানাজ বেগমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা নাছিমা বেগম নামে একজনকে আটক করেছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।