শাহরাস্তির বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে পৌর বিএনপি নেতা ফারুক
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন দুর্গাপূজা। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক ভিন্ন দৃশ্যের সাক্ষী হলেন ভক্তরা। পূজার আনন্দ আর ঢাক-ঢোলের তালে হঠাৎ দেখা মিলল শাহরাস্তি পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজীর।

রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ বা সাংগঠনিক কাজে অভ্যস্ত এ নেতাকে এবার দেখা গেলো একের পর এক পূজা মণ্ডপে গিয়ে ভক্ত ও আয়োজকদের সাথে কুশল বিনিময় করতে। শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও খোঁজ নেন তিনি।

ফারুক হোসেন মিয়াজী নিজমেহার দক্ষিণ পাড়া, ছিখটিয়া ঠাকুর বাড়ি, ঘোষপাড়া, পালপাড়া, মেহার কালীবাড়ি, পুরোহিত বাড়ি, সাহাপুর চৌধুরী বাড়ি এবং নাওড়া ঠাকুরবাড়ীসহ পৌর এলাকার প্রায় সব পূজা মণ্ডপই ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে পূজারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি বিশ্বাস করি, ধর্মের ভিন্নতা মানুষের মধ্যে দেয়াল তুলতে পারে না। বরং এসব উৎসব আমাদের আরো কাছে আনে। রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সমাজ-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আজ মণ্ডপগুলোতে গিয়ে দেখেছি, মানুষ আনন্দ করছে। কিন্তু সেই আনন্দের সাথে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তার প্রত্যাশা। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
তার এ সফরে যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম রিপন এককভাবে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন, পৌর বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির, মো: সেলিম পাটোয়ারী, এ এস এম লিটন, সৈয়দ আহম্মেদ, যুব নেতা রফিকুল ইসলাম, ফরিদ, রেজাউল, মামুন, শ্রমিক দলের নেতা রফিকুল ইসলাম, মনির মিয়াজি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবুল হায়দার, ছাত্রনেতা মেহেরাজুন্নবী রাজু, শাহাদাত হোসেন, জহিরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিভাজন যেখানে প্রায় সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে রাখে, সেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাদের মতে, যদি সব রাজনৈতিক নেতা এভাবে ভিন্ন সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসবে সরাসরি সম্পৃক্ত হন, তবে সমাজে অনেক ভয়ের দেয়াল ভেঙে যাবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও মজবুত হবে।





