সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

টামটা আদর্শ উঃবি’র পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৪০ পিএম
টামটা আদর্শ উঃবি’র পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন
শাহরাস্তি উপজেলার  টামটা আদর্শ উঃবি’র পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য পদের  নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন, এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঘোষিত ফলাফলে আবুল কালাম আজাদ ১৪৪ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। মো. দেলোয়ার হোসেন ১২৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, জহিরুল হক ১২৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং নজরুল ইসলাম ১১৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।
সরকারি বিধি মোতাবেক অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন,উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান।তাকে সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম আহমেদ, পৌরসভা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মাহবুব হাসান বাবলুসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকার বিশিষ্টজন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, গণমাধ্যম কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করায় তাঁরা আয়োজক ও সহযোগী সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।