শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি জামায়াত দেশে নৈরাজ্য করার চেষ্টা করছে; মায়া চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৪:২৬ পিএম
বিএনপি জামায়াত দেশে নৈরাজ্য করার চেষ্টা করছে; মায়া চৌধুরী

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়ে মতলব উত্তরে আসলে নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান।

মতলব উত্তর ব্যুরো : সাবেক দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত করায় আনন্দিত গোটা চাঁদপুরবাসী।

১৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম তাঁর নিজ বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরে আসছে, তাই জনতার ঢল নামে শ্রীরায়েরচর-বাংলা বাজার ব্রীজের পূর্ব পাশে। মায়া চৌধুরীর দুপুর আড়াইটায় আসার কথা থাকলেও সকাল ১০ টা থেকেই বিভিন্ন নেতাকর্মী আসতে শুরু করে। বেলা ৩ টায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম গালিমখা বাংলাবাজারে আসলে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে বরন করে নেন।

এসময় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় ধন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে সন্মান দিয়েছে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। শেখ হাসিনা আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ কটেছে তা পূরন করতে চেষ্টা করবো। আপনাদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো। বিএনপি জামায়াতে দেশে নৈরাজ্য করার চেষ্টা করছে। সকলে মিলে তা প্রতিহত করবো ইনশাল্লাহ। আপনারা দলের আর্দশ মেনে চলবেন। শেখ হাসিনাার হাত শক্তিশালী করবেন এবং চলমান উন্নয়নের ধারা অভ্যহত রাখবেন। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করেন। তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হবে ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরন হবে। পরে তিনি বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে নিজ বাড়ি মোহনপুরে অবস্থান করেন।

উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান পাটোয়ারী, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার এমএ ওয়াদুদ, আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাঈম পাটোয়ারী দুলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হাসান চৌধুরী দিপু, জেলা যুবলীগের আহবাহ্বায়ক আলহাজ মিজানর রহমান কালু ভূঁইয়া, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়রাম্যানের জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, সদস্য (দপ্তর) এ্যাড. সেলিম মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, ছাত্রলীগের আহবায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তামজিদ সরকার রিয়াদ প্রমুখ।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’