রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

কড়াইল বস্তিতে আগুন,খোলা আকাশের নিচে হাজারো পরিবার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩১ পিএম
কড়াইল বস্তিতে আগুন,খোলা আকাশের নিচে হাজারো পরিবার

১৬ ঘণ্টার আগুনে নিঃস্ব রাজধানীর কড়াইল বস্তির হাজারো পরিবার। পুড়ে ছাই হয়েছে অন্তত দেড় হাজার বসতঘর ও দোকানপাট।

সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বস্তিবাসী। সামনের দিন নিয়ে শঙ্কায় তারা। কড়াই বস্তিতে এখন শুধু হাহাকার। আগুনের ঘটনার তদন্তে কাজ করছে বিশেষ কমিটি।

এই বিলাপ সর্বস্ব হারানোর, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার। শত না থাকার মাঝেও বিকেল পর্যন্ত তাদের সব ছিল। এখন সম্বল বিশাল আকাশ, আর সামনে থাকা পোড়া ধ্বংসস্তূপ। সর্বস্ব হারানো এক ব্যক্তি বলেন, আমরা তো অসহায়, অসহায় ছাড়া আর কিছু না।

ভুক্তভোগীদের একজন মিনারা বেগম, খুঁজছেন মা হোসনে আরাকে। সব কিছু হারিয়ে তার চোখে মুখে এখন কেবলই এক রাশ বেদনা।

Model Hospital

মিনারা বলেন, আমার মাকে খুঁজতেছি এই জায়গায়। সবাই আসতেছে, আমার মা আসে নাই। একটু দেখেন, আমার মাকে খুঁজে দেন।

ভয়াবহ আগুনের স্বর্বস্ব হারিয়ে এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা। দিন কাটছে তাদের খোলা আকাশের নিচে। পুড়ে যাওয়া মালামাল থেকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন অবশিষ্ট কিছু।

এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, কিচ্ছু বাঁচাতে পারিনি। বউ-ঝি নাতি এক কাপড়ে বের হয়েছে।

রাজধানীর গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গায় কড়াইল বস্তি। আগুনের লেলিহান শিখায় চোখের সামনেই পুড়ে যায় সেখানে বসবাসকারীদের শেষ সম্বল। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগে। এখনো ফায়ার সার্ভিসের ১৬টা ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

আগুনে পুড়ে যায় কড়াইল বস্তির অন্তত দেড় হাজার বসতবাড়ি ও দোকানপাট। ঘটনার কারণ জানতে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কাজ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।