বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নানির অবস্থা আশঙ্কাজনক

হাজীগঞ্জ বাজারে বাসচাপায় নাতনির মৃত্যু, চালক দাবি করলেন “আমি সুপারভাইজার”

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪০ পিএম
হাজীগঞ্জ বাজারে বাসচাপায় নাতনির মৃত্যু, চালক দাবি করলেন “আমি সুপারভাইজার”

হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে বাসচাপায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে ৬ বছর বয়সী শিশু মার্জিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তার নানি নাজমা বেগম চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে শেরাটন হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই নানি-নাতনিকে দ্রুত সিএনজি অটোরিকশাযোগে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে পথেই মারা যায় ছোট্ট মার্জিয়া। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আর্তনাদে চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

আটক চালক শাহরাস্তি আলীপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান জানান, “আমি মূলত সুপারভাইজার। ড্রাইভিং করার সময় অন্য মনোযোগে ছিলাম। নিহত শিশুটি বা তার নানিকে আমি দেখিনি।”

চালকের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি একজন সুপারভাইজার কীভাবে দায়িত্বশীল চালকের আসনে বসে শতাধিক যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেন?

Model Hospital

পদ্মা ট্রান্সপোর্টের ওই বাসের এক যাত্রী জানান, কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে যাত্রা শুরুর পর থেকেই চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পুরো পথজুড়ে যাত্রীদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক চলেছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তেও দুই নারী ও একজন পুরুষ যাত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত ছিলেন চালক। সেই সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা।

উত্তেজিত জনতা বাসটি আটক করে এবং চালককে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।

নিহত মার্জিয়া লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বিগা ডালি গ্রামের প্রবাসী মানিকের একমাত্র কন্যা।
গুরুতর আহত নাজমা বেগম ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বড় হাজী বাড়ির মনির হোসেনের স্ত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “বাস ও চালককে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত করা হবে। অবহেলা বা বেপরোয়া গতির কারণেই যদি এ প্রাণহানি ঘটে থাকে, আমরা আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।”

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।