শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

তৃণমূলের ত্যাগী নেতা নেছার আহমেদকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি চান নেতা–কর্মীরা

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৭ পিএম
তৃণমূলের ত্যাগী নেতা নেছার আহমেদকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি চান নেতা–কর্মীরা

হাজীগঞ্জের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন, কর্মীবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন ত্যাগী নেতা নেছার আহম্মদ চৌধুরী। রাজনীতির মাঠে বারবার জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি দলের প্রতি অটল থেকেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এ কারণেই স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ‘ক্লিন ইমেজের নেতা’ হিসেবে।

দলের কঠিন সময়ে তিনি নিজের পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে দলের জন্য সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন নিঃস্বার্থভাবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একের পর এক মামলা ও নির্যাতন নেমে এলেও দলকে শক্তিশালী করার কাজে তিনি অবিচল ছিলেন।

সাবেক সভাপতি হিসেবে ৯ নং গন্ধ্যপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রদলকে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করতে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়। বর্তমানে তিনি উপজেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট ১২টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-চাঁদপুর রেলওয়ে মামলা, ফরিদগঞ্জ গাছ কাটা মামলা,যুবদলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেওয়ায় দায়ের করা রাজনৈতিক মামলা,টোরাগড় মামলা,এনায়েতপুরের একাধিক গায়েবি মামলা,ইউনিয়নের তিনটি ক্লাব আগুনে পোড়ার মিথ্যা মামলা,বিশেষ ক্ষমতায়ন আইনের মামলা,গায়েবি জানাজার মামলা।

Model Hospital

এসব মামলায় তিনি মোট ৮৩ দিন কারাভোগ করেছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে বলে জানান তাঁর ঘনিষ্ঠরা। তবুও কোন দিন তিনি দলের প্রতি মনোবল হারাননি। কারা নির্যাতন, হামলা-পিটুনি, ও প্রশাসনিক জুলুম-সবকিছু মাথায় নিয়ে তিনি বারবার মাঠে ফিরে এসেছেন দলের পতাকা উঁচু রাখতে।

ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ কর্মী থেকে তরুণ প্রজন্ম পর্যন্ত অনেকেই বলছেন-নেছার আহমেদের মতো ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাই ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশি যোগ্য।”

তাদের দাবি, উপজেলা যুবদল যেন তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, অবদান ও রাজনৈতিক নিষ্ঠার যথাযথ মূল্যায়ন করে তাকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়।

নেছার আহম্মদ চৌধুরী বলেন, চাঁদপুর -৫ সংসদীয় আসনের  ধানের শীষের কান্ডারী , হাজার হাজার নেতাকর্মীদের অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। তার দিকনির্দেশনা পরামর্শ নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি দলকে সুসংগঠিত করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দিনেও আমি দলের হয়ে  কাজ করে যেতে চাই। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয় বড় দায়িত্ব দেয়। আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করে-একজন সৎ, নির্যাতিত, সাহসী এবং কর্মীবান্ধব নেতাকে নেতৃত্বে আনা গেলে ইউনিয়ন যুবদল আরও সংগঠিত, শক্তিশালী এবং জনমুখী হয়ে উঠবে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।