সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বিজয় দিবসে রাঙামাটি পুলিশের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পুলিশ পরিবারকে সংবর্ধনা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৫ পিএম
বিজয় দিবসে রাঙামাটি পুলিশের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পুলিশ পরিবারকে সংবর্ধনা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় জন্মগ্রহণকারী পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ““মহান বিজয় দিবস আমাদের জাতির গৌরবের সর্বোচ্চ স্মারক। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাখো শহিদের রক্ত আর অগণিত মা–বোনের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।

Model Hospital

বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজও পুলিশ সদস্যরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের জান-মাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “শহিদ পুলিশ সদস্যদের পরিবার আমাদের গর্ব। তাঁদের ত্যাগ কখনো ভোলার নয়। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”

এ উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর পুলিশ সদস্যদের অসামান্য সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রাঙামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পুলিশ পরিবারকে সম্মাননা স্মারক ও সৌজন্য উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইকবাল হোছাইন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ জসীম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।