বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বাড়তি ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে সরিষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ২:৩৬ পিএম
মতলব উত্তরে বাড়তি ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে সরিষা

মতলব উত্তর ব্যুরো : ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কুয়াশা ও শীত থাকলেও এ অঞ্চলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর এতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমিতে থাকা ক্ষতিকারক জীবাণুও।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ভোজ্যতেলের চাহিদাপূরণ ও ভোজ্যতেলের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সরকার তেলজাতীয় ফসলের বৃদ্ধির জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তে কৃষি ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের মাধ্যমে দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করে অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে সরিষা, তিল, সূর্যমুখী, চীনাবাদাম, সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষকের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় মতলব উত্তর উপজেলার প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। ফলন বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

Model Hospital

প্রকল্পের আওতাভুক্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান তোলার পর অনেক জমি পরবর্তী বোরো ধান বপনের আগ পর্যন্ত অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকত। কিন্তু কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।

তারা জানান, সরিষা তোলার পর অনায়াসে বোরো বপন করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা আবাদের কারণে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর রোগ-বালাই দমনেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, আমি কৃষি বিভাগের কথামতো ৫০ শতাংশ জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। আগে তো জমিগুলো আমন আবাদের পর খালি পরি থাইকতো। এখন আবাদ করেছি। ফলন ভালো হইছে। বাজারে সরিষার দামও ভালো।

কৃষ্ণপুর এলাকার কবির হোসেন বলেন, আমি বারি সরিষা-১৪ জাতের সরিষার চাষ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। নিজের আবাদ করা সরিষার তেল খেতে পারব, পাশপাশি অতিরিক্ত সরিষা বাজারে বিক্রি করে কিছু টাকাও পাওয়া যাবে।
মধ্য ইসলামাবাদ গ্রামের কৃষক মাসুদ মিযাজী বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এবার এক একর বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছি সরিষার ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে সরিষার দামও খুব ভালো।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. পাভেল খান পাপ্পু বলেন, এ অঞ্চলে আমন আবাদের পর বোরো লাগানোর আগপর্যন্ত জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের জমিগুলোকে চাষের আওতায় এনে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে তেলের ঘাটতি পূরণ ও বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, সরিষা জমির জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী ফসল। সরিষা মাটি থেকে ধানের নিচের লেভেলের খাদ্য গ্রহণ করে। সরিষার আবাদের ফলে জমিতে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়। ধান কাটার পর ধানগাছের পড়ে থাকা গুঁড়িতে অনেক রকম রোগজীবাণু বাসা বাঁধে, যা পরবর্তী ফসলের ক্ষতি করে কিন্তু সরিষার আবাদের ফলে জমিতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital