বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিএনপির শক্ত অবস্থান, ৪ আসনে বিজয়; একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চমক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
চাঁদপুরে বিএনপির শক্ত অবস্থান, ৪ আসনে বিজয়; একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চমক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। শুধু চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী এম এ হান্নান।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঁচটি আসনের ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের এসব তথ্য জানা গেছে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ১১০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ১১-দলীয় জোটের (এলডিপি) ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট।

Model Hospital

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে ১৬৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮১১ ভোট।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ি মাছ) এম এ হান্নান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট এবং জামায়াতের মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ২৭৩ ভোট।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের ১৫৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. মমিনুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১-দলীয় জোটের এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৭১ হাজার ৮৫০ ভোট।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।