বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আইনের লোক পরিচয়ে কচুয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ  টাকা ও  স্বর্ণালঙ্কার লুট

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আইনের লোক পরিচয়ে কচুয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ  টাকা ও  স্বর্ণালঙ্কার লুট

কচুয়ার খিলমেহের গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের আহাজারি এবং এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে মালামাল।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খিলমেহের গ্রামের শিকারি বাড়িতে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে অজ্ঞাত ১৫-১৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে খিলমেহের গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হারুন শিকারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে জিম্মি করে রাখে। ডাকাতরা ঘরে থাকা আলমারি ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতদের হামলায় আহত হন গৃহকর্তা হারুন শিকারী, স্ত্রী মোরশিদা বেগম এবং পুত্রবধু তুলী।

এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও বেঁধে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন পুত্রবধূ তুলী আক্তার, মুন্নী আক্তার এবং নাতনি হামিদা আক্তার। ডাকাতরা তাদের মারধর করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

Model Hospital

ভুক্তভোগী হারুন শিকারী ও তার স্ত্রী মোরশিদা বেগম জানান, ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে সবাইকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। তারা জানান, পরিবারের এক সদস্য প্রবাস থেকে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন, যা ঘরে রাখা ছিল। সেই টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কারও ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার সকালে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা সদরের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় মো. শাহাদাত হোসেন গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভরাট করা অংশ খনন করে অপসারণ করা বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য তাকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে মো. শাহাদাত হোসেন গাজীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করেন।

এ ছাড়া ভরাট করা অংশ খনন করে সেখানে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং তা পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।