রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আইনের লোক পরিচয়ে কচুয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ  টাকা ও  স্বর্ণালঙ্কার লুট

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আইনের লোক পরিচয়ে কচুয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ  টাকা ও  স্বর্ণালঙ্কার লুট

কচুয়ার খিলমেহের গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের আহাজারি এবং এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে মালামাল।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খিলমেহের গ্রামের শিকারি বাড়িতে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে অজ্ঞাত ১৫-১৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে খিলমেহের গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হারুন শিকারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে জিম্মি করে রাখে। ডাকাতরা ঘরে থাকা আলমারি ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতদের হামলায় আহত হন গৃহকর্তা হারুন শিকারী, স্ত্রী মোরশিদা বেগম এবং পুত্রবধু তুলী।

এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও বেঁধে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন পুত্রবধূ তুলী আক্তার, মুন্নী আক্তার এবং নাতনি হামিদা আক্তার। ডাকাতরা তাদের মারধর করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

Model Hospital

ভুক্তভোগী হারুন শিকারী ও তার স্ত্রী মোরশিদা বেগম জানান, ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে সবাইকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। তারা জানান, পরিবারের এক সদস্য প্রবাস থেকে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন, যা ঘরে রাখা ছিল। সেই টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কারও ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার সকালে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।