রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গণহত্যা দিবস পালিত, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
শাহরাস্তিতে গণহত্যা দিবস পালিত, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে শাহরাস্তিতে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন। উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবির, মোঃ মহসিন মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বিভীষিকাময় স্মৃতি তুলে ধরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক শোকাবহ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। এই রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে বর্বর গণহত্যা চালানো হয়েছিল, তা মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। স্বাধীনতার মহান চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গণহত্যা দিবস শুধু স্মরণের দিন নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রেরণার দিন।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।