শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন প্রেমিকা ফাতেমার : পলাতক প্রেমিক সিয়াম

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
মতলবে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন প্রেমিকা ফাতেমার : পলাতক প্রেমিক সিয়াম
মতলব উত্তরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় দুর্গাপুর গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন প্রেমিকা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি প্রেমিকের বাড়ির গেইটে অবস্থান করছিলেন।
সরেজমিনে বড় দুর্গাপুর মিয়াজী বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রেমিক সিয়াম হোসেন মিয়াজীর বাড়ির সামনে একটি চেয়ারে বসে অনশন করছেন প্রেমিকা ফাতেমা আক্তার। বাড়িতে তালা ঝুলানো রয়েছে এবং প্রেমিকের বাবা আমির হোসেন মিয়াজি মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং মা খালেদা বেগম অন্য সন্তানদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক সিয়ামও পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী ফাতেমা আক্তার। তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে একই স্কুলে পড়ার সময় সিয়ামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গত মাসে কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটান বলেও দাবি করেন তিনি। সর্বশেষ ঈদের দিন তারা একসঙ্গে ঘুরতে যান এবং পরদিন চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকায় সময় কাটানোর পর সিয়ামের এক বন্ধুর বাড়িতে রাত যাপন করেন। ওই রাতেও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেমিকা ফাতেমা আক্তার আরে বলেন, এখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে আমি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছি। আমার সম্মান রক্ষার জন্য তার সঙ্গে বিয়ে ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিয়াম ও তার পরিবার এ ঘটনার জন্য দায়ী। বিশেষ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি পরিকল্পিতভাবে সিয়ামের মাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় ফাতেমা আক্তারের মা জোসনা বেগম মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জোসনা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে। এখন বিয়ে না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মানিক মিরাজ বলেন, ছেলেটি আমার বাড়ির, মেয়েটিও আমাদের গ্রামের। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি থানার ওসি মহোদয়কে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’