মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, কেককাটা, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর।

নানা আয়োজন, শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাংকন ও নৃত্য প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে প্রায় ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। একই সঙ্গে আয়োজিত নৃত্য প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগেও অংশগ্রহণ করে বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নুরে আলমের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক সাইদ হোসেন অপু চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর বলেন, যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যেভাবে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে। মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। আমি আশা করি, মেঘালয় যুব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সংবর্ধনা গ্রহণ করেন ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, চাঁদপুরের টি আই (অ্যাডমিন) প্রবীর কুমার দাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী।

এছাড়া সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নারী উদ্যোক্তা তানিয়া ইশতিয়াক খান ও ক্লিন বালিয়া এক্সপ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার খান তানিন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিশু থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পি এম বিল্লাল, বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট নুরুল হক কমল, চাঁদপুর ড্রামার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কে এম মাসুদ এবং সংগঠনের উপদেষ্টা আশিকুর রহমান খান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাংকন ও নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।