বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চাঁদপুরে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি

আত্মমানবতার সেবায় কাজ করছে সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশন : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
আত্মমানবতার সেবায় কাজ করছে সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশন : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী
সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশনের চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে টানা তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘সারা বাংলা ৮৮, সুখে-দুঃখে পাশাপাশি’ স্লোগানে পরিচালিত সংগঠনটি বন্ধুত্ব ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠান বিকেলে চাঁদপুর শহরের মোহনা হাউজিংয়ে অবস্থিত মডেল মসজিদ ও ইসলামী ফাউন্ডেশন চাঁদপুর এর হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাথেন
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোহেল রুশদী বলেন, আত্মমানবতার সেবায় কাজ করছে সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশন। এমন সংগঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন সহপাঠীরা আবার একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সারা বাংলা ৮৮ ফাউন্ডেশন শুধু বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রাখতেই নয়, আত্মমানবতার সেবায়ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। মানুষের কল্যাণে সংগঠনটির এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 সংগঠনের জেলা কো-অর্ডিনেটর জহির জায়েদুর রহমানের সঞ্চালনা বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাথেন চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সেলিম সরকার।
অনুষ্ঠানে আরো রাখেন সংগঠনের জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর আহমেদ কবির রিংকু ও আলহাজ নাছির উদ্দিন শাকিল
এদিনের কর্মসূচির শুরুতে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে ডাকাতিয়া নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষ বিতরণ করা হয়। ক্যানসারে আক্রান্ত এক ৮৮ বন্ধুর সন্তানের চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সবশেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান অতিথি ও সংগঠনের সদস্যরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর বদরুল হক শামীম, কামরুজ্জামান মুন্না, মো. ইকবাল হোসেন, সৈয়দ আহমেদ বাবুল, সৈয়দ আহমেদ খান শাকিল, দেওয়ান হাবিবুর রহমান, মো. ইকবাল খান, আলমগীর হোসেন মনির, আব্দুর রহমান খোকা, দেশক্ষত্রীয় শ্যাম, শম্ভুনাথ সাহা, তোফায়েল আহমেদ, মিজানুর রহমান, মাওলানা তাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম, মনির হোসেন, মান্নান মানু,
 নুরজাহান পারভীনসহ সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুরের দারুল উলুম নিয়ামতিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। তিনদিনের আয়োজনে প্রয়াত বন্ধু ও তাদের বাবা-মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। দ্বিতীয় দিন বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) চাঁদপুর শহরের বায়তুল আমিন মসজিদের সামনে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।